Posts

সামাজিক সাম্রাজ্যবাদ বিষয়ে ক্যাস্ত্রোর স্বীকারোক্তি [পর্ব-দুই]

Image
  এসকল পত্রালাপ ইতিপূর্বে ছাপা হয়েছে। কিন্তু আমার মনে হয়েছে আপনার অনুরোধে অক্টোবর সংকটের উপর আজকের এই পূনরালোচনায় এগুলোর অন্তর্ভূক্তি গুরুত্ব যোগ করবে। কারণ আমি আগেই বলেছি এগুলোকে বাদ দিয়ে অক্টোবর সংকটের রাজনৈতিক, আবেগিক এবং সামরিক গুরুত্ব উপলব্ধ হবে না।  ১৯৯১ সালের সেপ্টেম্বরে মস্কো সফরের সময় সোভিয়েত প্রেসিডেন্ট মিখাইল গর্বাচেভের সাথে কিউবা থেকে সোভিয়েত সেনা প্রত্যাহারের (মেকানাইজড ইনফ্যান্ট্রি ইনস্ট্রাকশন ব্রিগেড) বিষয়ে আলোচনা করেন তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেমস বেকার। গর্বাচেভ তাকে আশ্বস্ত করেন কিউবা থেকে শেষ সোভিয়েত সৈন্যটিকেও ফিরিয়ে আনা হবে। এই সিদ্ধান্তের আগে আপনার সাথে কোনো পরামর্শ করেছে তারা? পরামর্শ! তারা কখনোই আমার সাথে পরামর্শ করেনি। তখন তাদের পতন হচ্ছিল, ভেঙে টুকরো হচ্ছিল সোভিয়েত। আমাদের এখান থেকে যা-ই নিয়েছে, পরামর্শ ছাড়া নিয়েছে। অক্টোবর সংকটের সময় তারা পরামর্শ করেনি, বরং আমাদের অগোচরে চুক্তি করেছে ক্ষেপণাস্ত্র প্রত্যাহারের এবং সেই প্রত্যাহার পরিদর্শনে জাতিসংঘের প্রতিনিধি দলকে কিউবায় প্রবেশের বিষয়টিও চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করে! কিন্তু আমরা বলেছিলাম 'অসম্ভব'। ...

সামাজিক সাম্রাজ্যবাদ বিষয়ে ক্যাস্ত্রোর স্বীকারোক্তি [পর্ব-এক]

Image
  কেনেডি, আপনি এবং সেইসাথে গোটা দুনিয়ার মানুষ ইতিহাসের অন্যতম ভয়ংকর আন্তর্জাতিক সংকটের মধ্য দিয়ে গেছে, যাকে তথাকথিত '১৯৬২ সালের অক্টোবরে কিউবান ক্ষেপণাস্ত্র' সংকট বলা হয়, যা কিউবায় শুধু 'অক্টোবর সংকট' নামেই পরিচিত ৷ আজ ৪৩ বছর পর এই ঘটনাকে কিভাবে দেখছেন? এটা ছিল শ্বাসরুদ্ধকর সময় এবং এই সংকট থেকে অনেক কিছু শেখার আছে। কিউবার বিরুদ্ধে আগ্রাসী এবং বর্বর মার্কিন নীতির ফলশ্রুতি হিসেবে পরমাণু যুদ্ধের একেবারে কিনারে দাড়িয়েছিল বিশ্ব। গিরনে অপমানজনক  পরাজয়ের প্রায় দশ মাস পর এই পরিকল্পনা গ্রহন করে কেনেডি সরকার ৷ আর সংকট ছড়িয়ে পড়ার আট মাস আগে পরিকল্পনাটি মাঠে গড়ানো হয়। এর মূল উপজীব্য ছিল কিউবাকে বশে আনতে সরাসরি মার্কিন বিমান, নৌ এবং স্থলবাহিনী ব্যবহার করে একটা পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন চালানো। পরিকল্পনাটি সম্পর্কে বিশ্বাসযোগ্য তথ্য সংগ্রহে সমর্থ হয় সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং আসন্ন বিপদ সম্পর্কে কিউবাকে সময়মতো সতর্কও করে, যদিও তাদের তথ্য বিশদ ছিল না। সত্যি বলতে কি, তারা তাদের সূত্রের নিরাপত্তা রক্ষা  করতেই বিস্তারিত কিছু বলেনি। বলা হলো ভিয়েনায় কেনেডি এবং ক্রুশ্চেভের মধ্যকার বৈঠ...

চাড্ডিগণ [তিন]

Image
  "হিন্দুদের মধ্যে একটা ধারণা আছে-বেদে সব আছে। আজকের আধুনিক বিজ্ঞান যা কিছু আবিষ্কার করছে, তার সবই লিপিবদ্ধ রয়েছে বেদ-এ। বিদেশি শক্তি বেদ নিয়ে গিয়ে তার অর্থ পাঠোদ্ধার করে বিজ্ঞানের নিত্য নতুন আবিষ্কার করে চলেছে। আসুন, দেখি বেদে ঠিক কী আছে। বেদ-চারটি। ঋক্, সাম, যজু, অথর্ব।  ঋকবেদ - এতে আছে দেবতাদের উদ্দেশে রচিত নানা স্তোত্র। ঋকবেদের পাঁচটি শাখার নাম আমরা জানতে পেরেছি। (১) শাকল (২) বাস্কল (৩) আশ্বলায়ন (৪) সাংখ্যায়ন (৫) মাণ্ডুক।  বর্তমানে ঋকবেদের শাকল শাখাটিই শুধু টিকে আছে। এখন যে ঋকবেদ পাচ্ছি, তাতে আছে ১০২৮টি শূক্ত বা অধ্যায়। ১০২৮টি শূক্তে দশ হাজারের উপর শ্লোক রয়েছে। শ্লোকগুলোতে দেবতার গুণগান ও তাঁদের করুণা ভিক্ষা করা হয়েছে। এই দেবতারা তিন শ্রেণির। স্বর্গের দেবতা, যাঁদের মধ্যে প্রধান মিত্র, পুষা, বিষ্ণু, ঊষা, আদিত্যগণ। আকাশের দেবতা, যথা- ইন্দ্র, রুদ্র, বায়ু, পর্জন্য ও মরুদগণ। পৃথিবীর দেবতা, যথা- অগ্নি, সোম, পৃথিবী ইত্যাদি। ঋকবেদের একটি বৈশিষ্ট্য হলো, প্রাকৃতিক শক্তিগুলোকে যেমন দেবত্ব আরোপ করেছিল, তেমনই মানবত্ব আরোপেরও প্রয়াস ছিল। যেমন- ঊষা এক সুন্দরী যুবতী, যে তার প্রেমিকে...

বাম রঙ্গ [পর্ব-এগারো]

Image
  ...."ফরোয়ার্ড ব্লক মার্কসবাদী দল নয়" বলে কমিউনিস্ট পার্টি অফ ইন্ডিয়া (মার্কসিস্ট)-এর কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক হরকিষেণ সিং সুরজিৎ মন্তব্য করেন ৯ মে '৯৩ নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত 'কিউবা সংহতি কমিটি'র বৈঠকে। এক কিউবান কমিউনিস্ট পার্টির পলিটব্যুরোর নেত্রীর উপস্থিতিতে এমন বেমক্কা বাক্যবাণে মর্মাহত ফরোয়ার্ড ব্লকের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক চিত্ত বসু বলেন, "কোনও দলের নাম কমিউনিস্ট পার্টি হলেই সেই দল কমিউনিস্ট বা মার্কসবাদী হয়ে যায় না। সবকিছুই নির্ভর করে একটি দলের কাজকর্মের উপর।" এই খবর ১০ মে'র বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকার পাতায় পড়ে বুঝলাম, চিত্তবাবু খুবই কোমল চিত্তের মানুষ। অপ্রিয় সত্য বলে কাউকে ব্যথা দেওয়ার কথা ভাবতেই পারেন না। তাই সেদিনের অমন মহতী সভায় সোচ্চারে বলতে পারেননি - একটি মানুষের মার্কসবাদী হয়ে ওঠার প্রাথমিক ও আবশ্যিক শর্ত, তাকে যুক্তিবাদী হতেই হবে। নাস্তিক হতেই হবে। অন্ধ-বিশ্বাসের কাছে নতজানু হওয়া চলবে না। (এই প্রসঙ্গে অবশ্য এইটুকুও বলে রাখা ভালো - একটি মানুষকে যুক্তিবাদী হতে হলে মার্কসবাদী হতে হবে - এমন কোনও পূর্বশর্ত নেই)। এইসব আলটপকা অপ্রিয় সত্য কথাগুল...

সাঈদীর ফাঁসীর রায় নিয়ে মিথ্যাচার এবং সেগুলোর উত্তর - নিঝুম মজুমদার [পর্ব-তিন]

Image
  [উনার লেখার কিছু বানান ও যতিচিহ্ন সংশোধন করা হয়েছে] মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে গত ১৭ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেন আব্দুল হালিম বাবুল। সাক্ষ্য দেয়ার সময়  তিনি বলেছিলেন, ১৯৭১ সালে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীসহ অন্যান্য রাজাকার এবং সশস্ত্র পাক আর্মির লোকজন তাদের ঘরে প্রবেশ করে লুটপাট করে। এরপর তারা ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়।   সাক্ষী আব্দুল হালিম বাবুলের মামা আব্দুর রাজ্জাক আঁকন আজ  ট্রাইব্যুনালে এসে মাওলানা সাঈদীর পক্ষে সাক্ষ্য দিলেন। আব্দুর রাজ্জাক সাক্ষ্য দিয়ে বলেন, তার ভাগনে আব্দুল হালিম বাবুল এই ট্রাইব্যুনালে এসে সাঈদী সাহেবের বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন।  "স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে আমার ভাগনে আব্দুল হালিমের বাড়িতে কোনো পাক সেনা, রাজাকার যায় নাই। লুটপাট হ য়  নাই। আগুন দেয় নাই। এরকম কোন ঘটনাই ঘটেনি।" আব্দুর রাজ্জাক দ্বিতীয় সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দিলেন মাওলানা সাঈদীর পক্ষে। জবানবন্দী শেষে আজ তার জেরা শুরু হয়। আব্দুর রাজ্জাকের জবানবন্দী: আমার নাম আব্দুর রাজ্জাক আঁকন। পিতা মৃত ইসকান্দার আলী আঁকন। মাতা মৃত আকিমুননেসা। আমার বয়স ৬৫ বছর। গ্রাম নলবুন...