আমাদের দেশের মোল্লারা যেমন কোরান-হাদিসে পদে পদে বিজ্ঞান খুঁজে পায়, পাশের দেশের চাড্ডিগুলোর স্বভাবও একই। সিউডো সায়েন্স এর উৎকৃষ্ট উদাহরণ এই ভিডিও। চাড্ডিরা আগে পৈতা আর ধুতি পড়েই এসব প্রচার করলেও বর্তমানে জিন্স, টিশার্ট পড়ে এসব অপবিজ্ঞান এর ভিডিও আপলোড করে। ঠিক একই স্টাইলে তুরস্কের মোল্লারা (যাদের তুর্কি ভাষায় 'হোযা' বলে সম্বোধন করা হয়) পশ্চিমাদের পোশাক পড়েই জিন তাড়ায় বাড়ি বাড়ি! খোদ পশ্চিমাদের দেশগুলোতেও বিভিন্ন সংস্থা এসব অপবিজ্ঞানের উপর তথাকথিত গবেষণা চালাতে বিশাল পরিমাণে ফান্ড পেয়ে থাকে।
 |
| পেছনে সাধুদের লুইচ্চামি আর উপরে দুধে ধোয়া তুলসী পাতা |
 |
| চীন বিদ্বেষীতার মাত্রা! |
 |
| সংখ্যালঘু নিপীড়নে যখন উপমহাদেশের তিন দেশই সমান |
 |
| সেনাবাহিনীতে পর্যন্ত চাড্ডিগিরি! |
 |
| কিছুই বলার নেই |
 |
| গুন্ডামি |
 |
| মোল্লাদের মতোই এদের উপরে এক রূপ, ভিতরে আরেক রূপ |
 |
| ঠিক যেমনটা তালেবানরা নিজেদের মেয়েদের ক্ষেত্রে করেছিল |
 |
| পোস্টকার্ড এর ক্রেডিট একজন মুসলমানের, অথচ নিজেদের মোল্লাদের আকামের খবর নাই! |
 |
| 🙄🙄🙄 |
 |
| এদের উগ্রতার ভয়াবহ পর্যায়! |
 |
| কাশ্মীরে মুসলিমদের দ্বারা সংগঠিত বর্বরতাকে ছড়িয়ে দিতে মিডিয়াকে কাজে লাগানো হলেও এগুলো চেপে যাওয়া হয় |
 |
| মাদ্রাসার সাথে এদের পার্থক্য কোথায়? |
 |
| বের হলো কে?! |
 |
| নারীদের নাকি তারা সবচেয়ে বেশি সম্মান দিয়েছে ৪২০০ ধর্মের মধ্যে?! |
 |
| বিখ্যাত নায়কের উপলব্ধিবোধ |
 |
| এর কোনো জবাব আছে চাড্ডিদের কাছে? |
 |
| খণ্ডিত ইতিহাস পড়িয়ে উগ্র প্রজন্ম তৈরির পথে |
 |
| জবাব কি? |
চাড্ডির ব্যাখ্যা চাড্ডির মতোই হবে না তো কার মতো হবে? প্রথমত, চাড্ডি এটাই জানে না কমিউনিজম আর বামগিরি দুইটা দুই জিনিস। দ্বিতীয়ত, চাড্ডি বহিরাগত আর্যদের ইতিহাসই জানে না। তৃতীয়ত, সাম্যবাদের ধারণা প্রাচীনকাল থেকেই বিশ্বের নানা প্রান্তে বিদ্যমান ছিল, মার্ক্স ও এঙ্গেলস যৌথভাবে যেটাকে উন্নত পর্যায়ে কাঠামোবদ্ধ করেছেন। প্রাচীন ইরানের Mazdak এর মতবাদে সমাজতন্ত্রের প্রাথমিক উপাদান ছিল। ইরান কি ইউরোপে অবস্থিত?
https://www.cambridge.org/core/books/abs/cambridge-history-of-socialism/mazdak-and-late-antique-socialism/983BB62BC084EB99AFFC28F60C8F2C5B
.............................................................................................

কাশ্মীরি পন্ডিতদের উপর চালানো গণহত্যা অবশ্যই প্রশ্নাতীত। কিন্তু রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হওয়ার কারণে কংগ্রেস ও শেখ আব্দুল্লাহ'র ব্যাপারে চাড্ডি সেল এর মিথ্যাচার দৃষ্টিকটু। পুরো মিথ্যা বা সত্যের চেয়ে অর্ধেক মিথ্যা বা সত্য সবসময়ই ক্ষতিকর। বামপন্থী নারীদের সাথে জঙ্গিদের 'প্রেম' জাতীয় সম্পর্ক থাকার কারণে তারা কাশ্মীরের স্বাধীনতার পক্ষে কথা বলে - এই জাতীয় নোংরা প্রোপাগান্ডা প্রদর্শন করা উচিত হয়নি। তাছাড়া জবরদস্তিমূলক কনভার্ট এর ইতিহাস অনেকটাই মিথ্যা, বরং উঁচু বর্ণের হিন্দুদের শোষণ থেকে বাঁচতে উপমহাদেশের অসংখ্য মানুষ বৌদ্ধ ধর্ম পর্যন্ত গ্রহণ করেছিল।
.........................................................................................
'মেইড ইন ইন্ডিয়া' গানের গায়িকা যে উগ্র জাতীয়তাবাদী তা প্রমাণিত হয়ে গেলো আবারো। ইন্সটাগ্রামে প্রথম ছবিটা দিয়ে লিখেছেন এই অলিগার্করাই নাকি আসল রাম-সীতা! ব্যাকগ্রাউন্ডে বাজছে তার আরেকটা উগ্র জাতীয়তাবাদী গান 'চামকেগা ইন্ডিয়া'। অবশ্য রাম কর্তৃক নিচু বর্ণের শম্বুক হত্যা, নিজের স্ত্রীকে অন্যদের কথা ধরে দোষারোপ, মেরে ফেলে মাটির ভিতর ঢুকে যাওয়ার কাহিনী বানানো জাতীয় কর্মকান্ডের সাথে ব্রিটেনের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী আরেক অলিগার্ক এর কন্যা হওয়ার পরও পিতার সম্পত্তির মাত্র ০۔৯% পাওয়া, খোদ প্রধানমন্ত্রীর নিজ মুখে শ্রমিকদের তাচ্ছিল্য, ইউক্রেনের জোকারকে সমর্থন ইত্যাদি গায়িকা আলিশার দাবীকে সমর্থন করছে!
...........................................................................................
ভাষা ও ধর্মকে গুলিয়ে ফেলা কথিত লিবারেল ও উগ্র চাড্ডিদের উদ্দেশ্যে একটা তথ্য দেয়া যাক। ঢাকেশ্বরী মন্দিরে প্রবেশের সিংহদ্বারের নাম 'নহবতখানা তোরণ'। 'নহবতখানা' একটি ফার্সি শব্দ, এর অর্থ 'উৎসবের স্থান'। অন্যদিকে 'তোরণ' শব্দের উল্লেখ পাওয়া যায় বৈদিক যুগের অর্থশাস্ত্রে। পৃথিবীর কোন দেশের, কোন অঞ্চলের ভাষা মিশ্রণহীন তা যদি উনারা দেখিয়ে দিতেন! অনেক পশ্চিমবঙ্গের অধিবাসীদের বাংলাদেশের বহু আঞ্চলিক শব্দে আরবি, ফার্সি কিংবা উর্দু শব্দের উপস্থিতি নিয়ে তাচ্ছিল্য করতে দেখা যায়। অথচ তাদের দেশের রাষ্ট্রভাষায় মূল সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার বর্তমানে কত ভাগ তারা কি সেটা খতিয়ে দেখেছে? তসলিমা নাসরিন একবার এক কলামে শামসুর রহমানের আরবি-ফার্সি ব্যবহার নিয়ে সমালোচনা করেছিলেন। পশ্চিমবঙ্গে সারিতা আহমেদ নামে একজন পাঠ্যবইতে 'আকাশী'কে 'আসমানি' আর 'রামধনু'কে 'রংধনু' করায় বাংলা ভাষাকে মুসলমানি করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছিলেন। 'আসমানি' ফার্সি শব্দ, কিন্তু 'রামধনু' শব্দের রাম হচ্ছে হিন্দুদের দেবতা বিষ্ণুর সপ্তম অবতার। তাছাড়া 'রংধনু' সংস্কৃতজাত শব্দ; 'রং' শব্দটি এসেছে সংস্কৃত শব্দ 'রঞ্জ' থেকে।
আরেকটা শব্দের উপর আলোকপাত করা যাক। 'গুরুচণ্ডালী' একটি বর্ণবিদ্বেষী শব্দ। বর্ণাশ্রম প্রথা অনুযায়ী শুধু ব্রাহ্মণরাই গুরু হতে পারে, আর চণ্ডাল হচ্ছে নিম্ন শ্রেণীর হিন্দু সম্প্রদায়। তাদের শাস্ত্র অনুযায়ী মুসলমানদের চণ্ডালেরও অধম ধরা হয়।
"....পবিত্র গরু এবং পবিত্র লিপি সংঘবদ্ধকরণের জন্য নির্বাচিত বাহন হয়ে উঠেছে। গোরক্ষক (গরু রক্ষা) সমিতির প্রসার ঘটতে থাকে এবং একই সঙ্গে দাবি ওঠে যে দেবনাগরী (দেবতা এর ন্যায় ডিও/গড - দেবতাদের লিপি) আনুষ্ঠানিকভাবে উর্দু ভাষার দ্বিতীয় লিপি হিসেবে গৃহীত হবে। দেবনাগরী নামে পরিচিত বাভাণী ছিল ব্রাহ্মণদের লিপি এবং সংস্কৃতের মতো ঈর্ষান্বিতভাবে রক্ষা করা হয়েছিল এর বিশুদ্ধতা, নিম্ন বর্ণের 'দূষণকারী প্রভাব' থেকে সুরক্ষিত ছিল, যারা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে সংস্কৃত শেখার অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। কিন্তু পরিবর্তিত সময়ের জন্য এখন এটিকে 'জনগণের' আদি লিপি হিসাবে প্রচার করা দরকার। প্রকৃতপক্ষে, সেই সময়ে আরও ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত লিপি ছিল যেটিকে কাইথি বলা হতো। কিন্তু কাইথিকে কায়স্থদের মতো অ-ব্রাহ্মণ জাতিরা ব্যবহার করতো, যাদের মুসলমানদের আংশিক হিসেবে দেখা হতো। বিস্ময়করভাবে কয়েক দশকের মধ্যে কাইথিকে শুধু বাতিল করা হয়নি, জনসাধারণের স্মৃতি থেকে মুছে ফেলা হয়েছে।...."
- 'আজাদী', অরুন্ধতী রায়
........................................................................................
 |
| তার কাছে এরশাদ কাক্কু ফেইল, যে কিনা প্রতি বৃহস্পতিবার স্বপ্নে দেখতো পরের দিনের জুমা কোথায় পড়বে🤣 |
 |
| একদিকে মুসলিমদের খুন, আরেকদিকে অর্থ কামাই |
 |
| আলহামদুলিল্লাহ পার্টি আর জয় শ্রী রাম পার্টি যখন একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ |
 |
| একদিকে এদের আদৰ্শ হিটলার, আরেকদিকে নয়া আব্বাদের নাচ দেখানোর পর্দা ফাঁস (এপস্টাইন ফাইল) |
 |
| ক্রিকেটাররাও যখন উগ্রতায় আক্রান্ত |
 |
| উপলব্ধিবোধ জন্মানোর কারিগর বনাম উগ্র জাতীয়তাবাদী দালাল |
 |
| তারাই এখন সবচেয়ে বড় 'দেশপ্রেমিক'! |

ব্রিটিশ আমলের বিখ্যাত দারোগা প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়। তার চাকুরী জীবনের কেসগুলো নিয়ে লিখে গেছেন নিয়মিত 'দারোগার দপ্তর'। হিন্দু-মুসলিম দুই পার্টিই বর্তমানেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ছাড়াও বাস্তব জীবনে একে অন্যকে প্রদর্শনে তর্কে লিপ্ত হয় কোন পার্টি কত বেশি নারীদের সম্মান করে! অথচ দুই পার্টির অনার কিলিং এর তীব্রতা বন্ধে ব্রিটিশরা বাধ্য হয়েছিল কবরস্থান আর শ্মশানগুলোতে কর্মীদের উপর কড়া নির্দেশ জারি করতে যে, প্রতিটা লাশ চেক করতে হবে। এভাবে দুই পার্টির বহু অনার কিলিং এর বর্বরতা সামনে আসে। এরা দুই পার্টি নানা সময়ে বহুবার ধর্মীয় দাঙ্গায় লিপ্ত হলেও ব্রিটিশ আমলে জোট বেঁধে অপরাধ করতো যা এই দারোগার বহু কেসে উঠে এসেছে। তবে এই দারোগা নারীদের শিক্ষা ও বিধবা বিবাহের তীব্র বিরোধী ছিলেন এবং তিনি লেখায় প্রকাশ্যেই মুসলিম বিদ্বেষীতা দেখাতেন। এমনকি তিনি জাত প্রথা, বাল্য বিয়ে ও হিন্দু নারীদের পর্দা প্রথার সমর্থন করতেন; নারীদের বুদ্ধি নিয়ে তাচ্ছিল্য করতেন, নিম্ন বর্ণের হিন্দুদের ব্যাপারে খারাপ ধারণা প্রদর্শন করতেন।
 |
| এবার? |
 |
| 'ধুরন্ধর' আফিম বনাম বাস্তবতা |
আম্বেদকর স্বাধীনতা পরবর্তী ভারতের আইনমন্ত্রী হিসাবে কয়েক মাস হিন্দু কোড বিলের খসড়া তৈরির কাজ করেছিলেন। তিনি মনে করতেন জাতিবর্ণ ব্যবস্থা অগ্রসর হয় নারীদের নিয়ন্ত্রণ করার মধ্য দিয়ে এবং তার আরেকটা চিন্তার কারণ ছিল হিন্দু পার্সোনাল ল'কে নারীদের জন্য কিভাবে আরও ন্যায়সঙ্গত করে বানানো যায়। এই বিলে তিনি বিবাহ বিচ্ছেদ অনুমোদন এবং বিধবা স্ত্রী ও কন্যাদের সম্পত্তির অধিকার সম্প্রসারিত করার প্রস্তাব রাখেন। সাংবিধানিক সভা চার বছর ধরে (১৯৪৭-১৯৫১) এই প্রস্তাব পা দিয়ে মাড়ায় এবং ধামাচাপা দেয়। এই বিলকে আইনে পরিণত হওয়া আটকাতে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি রাজেন্দ্র প্রসাদকে হুমকি দেয়া হয়েছিল।
https://en.m.wikipedia.org/wiki/Rajendra_Prasad
হিন্দু সাধুরা সংসদ ভবন অবরোধ করে শুয়ে পড়ে। শিল্পপতি ও জমিদারেরা পরবতী নির্বাচনে তাদের সমর্থন তুলে নেয়ার হুমকি দেয়। ক্ষোভে আম্বেদকর আইনমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ান। পদত্যাগ বক্তব্যে তিনি বলেন-
“শ্রেণীর সাথে শ্রেণীর, লিঙ্গের সাথে লিঙ্গের বৈষম্য যা কিনা হিন্দু সমাজের আত্মা - সেটাকে ছাড় দিয়ে অর্থনৈতিক সমস্যা নিয়ে কিছু আইন প্রণয়নের মধ্য দিয়ে আমাদের সংবিধানকে প্রহসনে পরিণত করা হচ্ছে এবং গোবরের গাদায় তৈরি হচ্ছে প্রাসাদ।”
Comments