অভিজিৎ এর ভক্তদের প্রতি (পর্ব-চার)

 


অভিজিৎ দ্বারা দাবিকৃত সোভিয়েত সরকার কর্তৃক কথিত বিজ্ঞান বিরোধিতার সত্যতা নিম্নরূপ-

....সমাজকে সংকটমুক্ত করতে পারলে বিজ্ঞানও যে কীভাবে মুক্তি পায় তারই নিদর্শন হিসেবে এখানে পাভলভের অভিজ্ঞতাটির আলোচনা করতে চাই। রুশ দেশের মানুষ ধনতন্ত্রের সংকট থেকে সমাজকে মুক্ত করেছিল নভেম্বর বিপ্লবের মধ্যে দিয়ে। নভেম্বর বিপ্লবের সময়ে পাভলভ কী করছিলেন? উত্তরটা বুঝতে পারা যাবে তাঁর একজন প্রিয় ছাত্রের একটি অভিজ্ঞতা থেকে। ছাত্রটি বলছেন:

নভেম্বর বিপ্লবের সময়কার কথা। শহরের পথঘাট দিয়ে তখন চলা দুষ্কর। ফলে, সেদিন ল্যাবরেটরিতে পৌঁছতে আমার মিনিট দশেক দেরি হয়ে গেল। পাভলভের সঙ্গে একটা পরীক্ষা করবার কথা ছিল। পৌঁছে দেখি, আর কেউ এসে পৌঁছতে পারেনি, কেবল তিনি প্রস্তুত হয়ে অপেক্ষা করছেন। কাজে আসবার ব্যাপারে এক মিনিটের এদিক-ওদিকও তিনি কোনদিন ক্ষমা করতেন না। আমার দেরি দেখে বিদ্রূপ করে বললেন, "মশাইয়ের এত দেরি যে?"

"বাইরে বিপ্লব হচ্ছে, সে খবর কি আপনি রাখেন না?" 

তিনি বললেন, "কিন্তু ল্যাবরেটরিতে যখন কাজ রয়েছে তখন বাইরের বিপ্লবে আমাদের কী আসে যায়?"

বিজ্ঞান বিহ্বল এহেন মানুষটিরই শেষ পর্যন্ত কিভাবে বিপ্লবের বৈজ্ঞানিক তাৎপর্য সম্বন্ধেই চোখ খুলে গেল, সে অভিজ্ঞতার কাহিনী কম বিস্ময়কর নয়! তার জীবনের এই অধ্যায়টির কথাই সংক্ষেপে বলব। নভেম্বর বিপ্লবের সময় বিপ্লবকে তিনি সমর্থন করেননি। তার মানে নিশ্চয়ই এই নয় যে, তিনি জার আমলের সমর্থক ছিলেন। বস্তুত জার আমলের কঠিন সমালোচক ছিলেন বলেই সে সময়ে তিনি এমনকি গবেষণার উপযুক্ত সুযোগ-সুবিধেও পাননি। কিন্তু তবুও তিনি তখন পর্যন্ত এ কথা মানতেন না যে, বিপ্লবের সাহায্যেই দেশের সমস্যার সমাধান হবে। তিনি ভাবতেন, সমাধান পাবার একমাত্র পথ হলো বিজ্ঞানের গবেষণা! কিন্তু সমাজ-বিজ্ঞান কি বিজ্ঞান নয়? মানুষের সঙ্গে মানুষের সুস্থ সম্পর্ক স্থাপন করবার পরীক্ষাটিও বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা নয়? তারই নাম তো বিপ্লব। কিন্তু বিপ্লবের এই তাৎপর্যটিকে পাভলভ স্বীকার করতে পারেননি। বরং, বিপ্লবের ঠিক পরেই দু' একজনের পক্ষে দু' একরকম অতি-বিপ্লবী আতিশয্য দেখে তিনি তীব্র প্রতিবাদ জানাতে দ্বিধা করেননি। এখানে দু'টি ঘটনার উল্লেখ করা যায়। গবেষণাকেন্দ্র থেকে যখন প্রিন্স অফ ওল্ডেনাবার্গ-এর ছবি সরিয়ে দিতে বলা হলো তখন প্রতিবাদ হিসেবে পাভলভ সে ছবি নিয়ে গিয়ে টাঙালেন নিজের অফিস ঘরে। আর একবার পুরোহিত-পুত্র বলেই কয়েকজন ছাত্রের উপর বহিষ্কার আদেশ এসেছিল; প্রতিবাদ জানিয়ে পাভলভ বললেন, "আমার পক্ষেও তাহলে এখানে চাকরি করা চলবে না, কেন না আমার পিতাও পুরোহিত ছিলেন।" এ ধরনের প্রতিবাদ দেখে তাঁর হিতাকাঙ্ক্ষীরা বেশ কিছুটা ঘাবড়েই গিয়েছিলেন। নতুন সরকার পাভলভের বৈজ্ঞানিক কদর কতখানি বুঝবে তার ঠিক নেই! তাছাড়া শত্রুপক্ষ তো ক্রমাগতই রটাচ্ছে যে, বলশেভিকরা একেবারেই সমালোচনা সইতে পারে না, সেদিক থেকে দেশে যেন নতুন করে মধ্যযুগ কায়েম হতে চলেছে! কিন্তু, ব্যক্তিগত লাভ-লোকসানের হিসেব আর যাই হোক পাভলভের বিশ্বাস-অবিশ্বাসকে কোনদিনই টলাতে পারেনি। অবশ্যই ওই হিতাকাঙ্ক্ষীদের আশঙ্কাটা অমূলক ছিল। কেননা, পাভলভ তখন বিপ্লবের সমালোচনা করলেও বিপ্লবের নেতা লেনিন পাভলভের গবেষণার তাৎপর্যটাকে খুবই স্পষ্টভাবে জানতেন। তাই বিপ্লবের ঠিক পরেই দেশের সব রকম সাময়িক অনটন সত্ত্বেও লেনিন বললেন, এ অনটন যাতে পাভলভের গবেষণাকে কোনো মতেই ক্ষুন্ন না করে সে বিষয়ে যথাসাধ্য চেষ্টা করতে হবে। স্বয়ং লেনিনের নেতৃত্বে সোভিয়েত সরকারের তরফ থেকে যে ইস্তাহার প্রকাশিত হলো তাতে বলা হলো সারা দুনিয়ার পক্ষেই পাভলভের বৈজ্ঞানিক গবেষণার তাৎপর্য অত্যন্ত দুর্মূল্য, তাই যেমন করেই হোক এ গবেষণা চালিয়ে যাবার জন্যে ব্যবস্থা করতেই হবে। কাউন্সিল অব পিপলস কমিশার পেট্রোগ্রাডের সোভিয়েতকে জানাল, পাভলভের বৈজ্ঞানিক গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করতে হবে। ম্যাকসিম গোর্কি গেলেন পাড়লভের সঙ্গে দেখা করে জেনে আসতে তাঁর বৈজ্ঞানিক গবেষণার জন্যে নতুন সোভিয়েত রাষ্ট্রের পক্ষে কী কী করা সম্ভব। আর কিছুদিনের মধ্যেই পাভলভ একেবারে স্তম্ভিত হয়ে গেলেন। দেশের সরকার যে বৈজ্ঞানিক গবেষণার জন্যে এতোখানি করতে পারে, বৈজ্ঞানিক গবেষণাকে এতোখানি মর্যাদা দিতে পারে, সে কথা ইতিপূর্বে তিনি কখনো কল্পনা করতে পারেননি! ক্রেমলিনে শারীরতত্ত্ববিদদের এক সভায় তিনি বললেন:

"আমাদের উপর বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠানগুলির দায়িত্ব; আমরা একটা বিষয়ে রীতিমতো শঙ্কিত হয়েছি ও অস্বস্তি বোধ করছি: সরকার থেকে আমাদের জন্যে এই যে বিরাট সুযোগ-সুবিধে করে দেওয়া হচ্ছে একে আমরা ঠিকমতো মর্যাদা দিতে পারবো তো?"

গবেষণার জন্যে রাষ্ট্রের কাছ থেকে শুধু অর্থনৈতিক সাহায্য পাওয়াই নয়, নতুন আমলে পাভলভের জীবনে আরো নানান রকম নতুন অভিজ্ঞতা ঘটতে লাগলো। এখানে বিশেষ করে দু'টি অভিজ্ঞতার উল্লেখ করা যায়।

প্রথমত, পাভলভ সারা জীবন ধরেই কায়িক শ্রমকে মর্যাদা দিতে চেয়েছেন। অথচ, নভেম্বর বিপ্লবের আগে পর্যন্ত তিনি দেখেছেন সামাজিকভাবে গতর খাটানোর কোন মর্যাদাই নেই; যারা গতর খাটায় তারা ছোটলোক, ইতর মানুষ। অথচ নভেম্বর বিপ্লবের পর থেকে একেবারে অন্যরকম সমাজে শ্রমের এ কী অপরূপ মর্যাদা! স্টাখানোভাইট খনি মজুরদের এক সভায় পাভলভ তাই অভিভূত হয়ে বললেন:

"সারা জীবন ধরে আমি মানসিক শ্রম ও শারীরিক শ্রম, বিশেষ করে দ্বিতীয়টিকে ভালোবেসেছি। যখন এই দ্বিতীয়টির সঙ্গে কিছু সমস্যার যোগ থেকেছে, অর্থাৎ হাতের সঙ্গে যখন মগজেরও মিলন হয়, তখনই আমি বিশেষভাবে আনন্দিত হয়েছি। আর ঠিক এই রাস্তা ধরেই এগিয়ে চলেছেন আপনারা। আমি আজ মনে প্রাণে কামনা করি আপনারা এই রাস্তায় অনেক অনেক দূর এগিয়ে চলুন। একমাত্র এই রাস্তাই যে মানুষকে প্রকৃত সুখের সন্ধান দিতে পারে।"

দ্বিতীয়ত, পাভলভের সারা জীবন ধরে একদিকে যেরকম বিজ্ঞানের প্রতি অসীম নিষ্ঠা ছিল, আবার অপরদিকে ছিল দেশের সাধারণ মানুষের প্রতি গভীর ভালোবাসা। কিন্তু বিজ্ঞান আর জনসাধারণ - এই দুইয়ের মিল কোথায়? বিপ্লবের আগে পর্যন্ত তিনি বিজ্ঞানকে দেখেছেন গবেষণাগারের সংকীর্ণ গণ্ডিটুকুর মধ্যে, শুধু মুষ্ঠিমেয় বিশেষজ্ঞের আলোচনায় আবদ্ধ। সাধারণ মানুষের সঙ্গে তার কোনই যোগ নেই। তাই বিজ্ঞানের মতো মানুষের অমন অপরূপ কীর্তিটি সম্বন্ধে সাধারণ মানুষের কোন উৎসাহও নেই। অথচ, বিপ্লবের পর থেকে একেবারে অন্যরকম। পাভলভের নিজের ভাষাতেই তার বর্ণনাটা দেখো। ১৯৩৫ সালে নিজের জন্মস্থানে এক সভায় তিনি বললেন:

"আমার দেশের সমস্ত মানুষ বিজ্ঞানকে সম্মান করে। আগেকার আমলে জীবনের সঙ্গে, সাধারণ মানুষের সঙ্গে বিজ্ঞানের যোগ ছিল না। কিন্তু এখন দেখছি অন্য রকম, দেখছি পুরো জাতিটি বিজ্ঞানকে শ্রদ্ধা করছে, গ্রহণ করছে। পৃথিবীর মাত্র একটি রাষ্ট্র বিজ্ঞানকে এতোখানি মূল্য দিতে পেরেছে, বিজ্ঞানকে এমনভাবে সমর্থন করতে পেরেছে। সে রাষ্ট্র হলো আমার দেশের রাষ্ট্র!"

বিজ্ঞান বিহ্বল মানুষটি তাই শেষ পর্যন্ত বিপ্লব বিহ্বলও হয়ে উঠলেন। ১৯৩৫ সালের আর একটি সভায় তিনি বললেন:

"আপনারা তো জানেনই, পায়ের থেকে মাথা পর্যন্ত আমি হলাম বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় বিভোর। আমার দেশের রাষ্ট্রও আজ এক বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় আত্মনিয়োগ করেছে, কেবল সে পরীক্ষা এত বিরাট যে, আমার পরীক্ষার সঙ্গে তার তুলনা হয় না। আমি তীব্রভাবে কামনা করছি যেন আমি দীর্ঘদিন বাঁচতে পারি, এই ঐতিহাসিক ও সামাজিক পরীক্ষার সাফল্য আমি দেখে যেতে চাই!"....

- 'আবিষ্কারের অভিযান', দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায় 
..........................................................................................


সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার সুফল পুঁজিবাদী সমাজে ঢুকেও তাদের মেয়েরা কিভাবে এখনো ভোগ করছে তার উপর এই রিপোর্ট মধ্য এশিয়ার এক মিডিয়ার। সিরিলিক অক্ষরে যেই ডাটা দেয়া হয়েছে সেটার বাংলা অনুবাদ -

#জর্জিয়াতে মেয়েরা গড়ে ২৯ বছর বয়সে বিয়ে করে
#আর্মেনিয়াতে ২৮ বছর বয়সে
#বেলারুশে ২৬ বছর বয়সে 
#মলদোভায় ২৬ বছর বয়সে 
#ইউক্রেনে ২৬ বছর বয়সে
#কাজাখস্তানে ২৫ বছর বয়সে
#কিরগিজস্তানে ২৪ বছর বয়সে
#তুর্কমেনিস্তানে ২৪ বছর বয়সে
#আজারবাইজানে ২৪ বছর বয়সে
#রাশিয়ায় ২৩ বছর বয়সে
#তাজিকিস্তানে ২২ বছর বয়সে
................................................................................................


তাখতাজান ছিলেন বিখ্যাত সোভিয়েত বিজ্ঞানী। তাঁর সপুষ্পক উদ্ভিদের শ্রেণিবিন্যাস পদ্ধতি এখনো বিশ্বের সর্বত্র শিক্ষার্থীদের জন্য অবশ্যপাঠ্য। সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা এভাবেই রত্নদের তৈরি করেছে।
.............................................................................................

উসমানীয় সুলতানদের আমলে সোভিয়েত মুসলিমদের শিক্ষার হার বনাম সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েতে মুসলিমদের শিক্ষার হার

.........................................................................................


যেই সিঙ্গাপুরে অভিজিৎ পড়াশোনা করেছেন সেই দেশটির সরকারের নিয়ম অনুযায়ী কর্মজীবী মানুষদের (নাগরিক ও প্রবাসী সবার ক্ষেত্রে একই নিয়ম) আয়ের ৩৭% বাধ্যতামূলকভাবে সরকারের সেভিংস একাউন্টে জমা রাখতে হয় আর সেখান থেকে অর্থ নিয়েই সরকার স্বাস্থ্য, বীমা ও অন্যান্য খাতে ব্যয় করে। অথচ সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থায় স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আবাসন এবং অন্যান্য মৌলিক অধিকারগুলো বিনামূল্যে সরবরাহ করা হয়।
...........................................................................................

‘মাসেস’ পত্রিকা সম্পাদক ম্যাক্স ইস্টম্যানকে জন রীড বলেছিলেন-

“ম্যাক্স, কাউকে বলো না আমি কোথায় আছি। আমি রাশিয়ার বিপ্লবকে ধরতে চাইছি একটা বইয়ে। আমার ছোট্ট ঘরটাতে এখন ইশতেহার আর কাগজের পাহাড় আর একটা রাশিয়ান ডিকশনারি, আমি দিন রাত এক করে শুধু লিখে চলেছি। গত ৩৬ ঘন্টা আমি দু’চোখের পাতা এক করিনি। দু’সপ্তাহের মধ্যে আমি পুরো ব্যাপারটা শেষ করবোই। একটা নামও মাথায় এসেছে - দুনিয়া কাঁপানো দশ দিন! বিদায় বন্ধু। একটা কফি খাওয়া খুব দরকার। দোহাই তোমাকে, আমি কোথায় আছি কাউকে বলো না।”  

https://en.m.wikipedia.org/wiki/Max_Eastman

পোর্টল্যান্ডে জন্ম তার, এটা সেই বন্দর শহর যেখানকার শ্রমিকরা শ্বেত কলচাক বাহিনীর জন্য জাহাজে গোলা বারুদ বোঝাই করতে অস্বীকার করেছিলেন। 

https://en.m.wikipedia.org/wiki/Spring_offensive_of_the_White_Army

https://en.m.wikipedia.org/wiki/Alexander_Kolchak

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে গিয়ে জন রীড আভিজাত্য আর উন্নাসিকতার সদর দফতরে বানিয়ে বসলেন ‘সমাজতান্ত্রিক ক্লাব’। ছাত্র থাকার সময় ‘ল্যাম্পুন’ পত্রিকায় তার লেখালিখি নাম কুড়িয়েছিল, বিশ্ববিদ্যালয়ের চৌহদ্দি পেরোনোর আগেই তার কাছে আসতো বিবিধ পত্রপত্রিকায় লেখার আমন্ত্রণ। আলবার্ট রিসের কথায়- 

“সমকালীন ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে যদি কেউ ওয়াকিফহাল থাকতে চান তাহলে তার শুধু জন রীডকে অনুসরণ করলেই চলে। ঝড়ের পাখি আলবাট্রসের মতো যেখানে ইঙ্গিতবাহী কিছু, সেখানেই জন রীড।”

মেক্সিকোতে ঋণবন্দি কৃষকরা পঞ্চো ভিলার নেতৃত্বে বিদ্রোহের নিশান উড়িয়ে রাজধানীর দিকে রওয়ানা দিলে সেই কাতারেও দেখা গেছে জন রীডকে। 

https://en.m.wikipedia.org/wiki/Pancho_Villa

তিনি লিখলেন ‘ইনসার্জেন্ট মেক্সিকো’র মতো প্রামাণ্য বই।

https://www.gutenberg.org/ebooks/48108

'লিবারেটর' পত্রিকাতে বেরিয়েছিল তার নিবন্ধ 'Get a straight jacket for your soldier son' - যা তাকে রাষ্ট্রদ্রোহের দায়ে অভিযুক্ত করে। আদালতে দাঁড়িয়ে আমেরিকার হয়ে যুদ্ধে যেতে সরাসরি অস্বীকার করে নড়ে বসতে বাধ্য করেছিলেন জুরিদের। লেখার জন্য অনুসন্ধানে গিয়ে পাওয়া সত্যিগুলোকে মানুষের সামনে তুলে ধরার জন্য আলোচনা সভার আয়োজন করতেন তিনি। ১৯১৭-র পৃথিবীর প্রথম প্রলেতারীয় বিপ্লবের সরেজমিন সাক্ষী রইলেন তিনি। স্যুটকেস ভর্তি বই আর ইশতেহার নিয়ে নিউইয়র্ক ফিরে তিনি রাষ্ট্রের আক্রমণের মুখে পড়লেন। নিউইয়র্কের ছোট্ট কুঠুরিতে শেষ করেছিলেন এই বইটি। পুঁজিবাদী সংবাদপত্রগুলো বন্ধ করে দিলো তার লেখা ছাপা, গালাগালি আর কুৎসার বন্যায় ভাসিয়ে দিতে চাইলো তাকে। কিন্তু জন রীড জনতার মাঝে সভা করে ছড়িয়ে চললেন বিপ্লবের খবর। অপারেশনে একটি কিডনি হারালে ডাক্তার যখন তাকে যুদ্ধের জন্য অনুপযুক্ত ঘোষণা করেন, তখন জন রীড জবাব দিয়েছিলেন-

"দুই জাতির মধ্যকার যুদ্ধ থেকে রেহাই মিললো বটে, কিন্তু শ্রেণিযুদ্ধে যোগ দেয়ার দায় থেকে তো ছুটি নেই।" 

বইটি বেরোনোর মাত্র এক বছরের মধ্যে জন রীড মারা যান মস্কোতে। 'Ten days That Shook The World' বইটিতে ছিল লেনিনের নিজের হাতে লিখে দেয়া ভূমিকা।

"মজুরদের মাঝে মাঝে সৈনিকরাও আসছিল তাদের কফিন নিয়ে, আসছিল ঘোড়সওয়ার স্কোয়াড্রন স্যালুটের কুচকাওয়াজ করে, ছিল গোলন্দাজ ব্যাটারি, কামান যেগুলো লাল আর কালো কাপড়ে মোড়া, বুঝি-বা চিরকালের মতোই। ঝান্ডায় লেখা: ‘তৃতীয় আন্তর্জাতিক জিন্দাবাদ!’, ‘চাই ন্যায্য, গণতান্ত্রিক, সর্বাত্মক শান্তি!’ ধীরে ধীরে কফিন নিয়ে শোভাযাত্রীরা এসে পৌঁছালো সমাধির কাছে, বোঝা নিয়ে ঢিবির ওপর উঠে নেমে এলো গর্তে। তাদের অনেকেই নারী - শক্তসমর্থ, গাঁট্টাগোট্টা প্রলেতারীয় নারী। মৃতের পেছন পেছন এলো আরও নারী - ভেঙে পড়া তরুণী যুবতী, নয়তো বলিরেখাচ্ছন্ন বৃদ্ধা, আহত পশুর মতো আর্তনাদ করছে, পতি-পুত্রের অনুগমন করছে ভ্রাতৃ সমাধিতে, প্রবোধ দিয়ে কোনো হাত তাদের সংযত করতে গেলেই ডুকরে উঠছে তারস্বরে। পরস্পরকে কী ভালোই না বাসে গরিবরা। সারাদিন ধরে চললো অন্তিম মিছিল; এলো তারা ইবেরিয়ান ফটক দিয়ে, চলে গেলো নিকোলস্কায়া পেরিয়ে, লাল পতাকার একনদী স্রোত বহন করে চললো আশা আর ভ্রাতৃত্ব, বিপুল এক ভবিষ্যতের বাণী, পঞ্চাশ হাজার জনতার এক পটভূমির সামনে দিয়ে; বিশ্বের সমস্ত শ্রমিকজন ও তাদের অনন্ত বংশধরদের দৃষ্টির তলে। একের পর এক পাঁচশ কফিন নামলো গর্তে। নামলো প্রদোষ। তখনো বিরাম নেই অবনত আন্দোলিত পতাকার। ব্যান্ডে বাজলো অন্ত্যেষ্টি সঙ্গীত। বিশাল জনতার সুর জাগলো। সমাধির ওপর গাছগুলোর নিষ্পত্র শাখায় টাঙানো রাশি রাশি মালাগুলো যেন বিচিত্র কোনো সাতরঙা ফুল। দুইশ লোক কোদাল চালাতে লাগলো মাটির স্তূপে। ঝুপ ঝুপ করে তা ঝরে পড়ার শব্দ উঠলো সঙ্গীতের ফাঁকে ফাঁকে। আলো জ্বললো। পেরিয়ে গেলো শেষ পতাকা, শেষ শোকার্তা নারী ফিরে চেয়ে গেলো এক বুক ভাঙা তীব্রতায়। বিরাট ময়দান থেকে ধীরে ধীরে ফিরে ভাটায় নামলো প্রলেতারীয় জোয়ার। হঠাৎ অনুভব করলাম, স্বর্গে পৌঁছানোর জন্য ধর্মপ্রাণ রুশদের আর পুরোহিতের প্রয়োজন নেই। মর্ত্যে তারা যে রাজ্য গড়তে শুরু করেছে তা কোনো স্বর্গেও পাওয়ার নয়। তার জন্য মৃত্যুবরণ গৌরবের কথা।"

- 'দুনিয়া কাঁপানো দশ দিন', জন রীড
...................................................................................................

সমাজতান্ত্রিক হাঙ্গেরির বিজ্ঞানী Olszewski ১৯৬১ সালে সাইফনের ন্যায় 'অলসোয়েস্কি নল' আবিষ্কার করেছিলেন যা জলাশয়ের ক্ষতিকর ইউট্রোফিকেশন প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে কাজে লাগানো হয়।


Comments

Popular posts from this blog

চাড্ডিগণ [এক]

পাকিস্তান ও ইজরায়েল

মুস্তারেবিন