বিজেপিকে যারা চালাচ্ছে
বিজেপিকে কারা ক্ষমতায় এনেছে সেটা জানতে 'গুজরাট ফাইলস' বইটি চমৎকার রেফারেন্স হিসেবে কাজ করবে-
https://drive.google.com/file/d/1UC39IA1IVKj3ijViQ9YfA653zn_zrr0H/view
ভারতের নির্বাচন কমিশনে ২০১৯-২০ সালের জমা দেয়া অনুদান প্রাপ্তির প্রতিবেদনে বিজেপি জানিয়েছে যে বিভিন্ন সংস্থা ও ব্যক্তিদের থেকে ঐ অর্থ বছরে ৭৫০ কোটি টাকা অনুদান পেয়েছে তারা। ঐ বছরেই কংগ্রেসের পাওয়া অনুদানের থেকে বিজেপি পাঁচগুণ বেশি অনুদান পায়। ২০১৯-২০ সালে কংগ্রেস পেয়েছিল ১৩৯ কোটি, জাতীয়তাবাদী কংগ্রেস পার্টি পেয়েছিল ৫৯ কোটি, তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছিল ৮ কোটি, ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) পেয়েছিল ১৯.৬ কোটি, ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি পেয়েছিল ১.৯ কোটি টাকা। বিজেপির ক্ষেত্রে ২০১৮-১৯ সালের থেকে ২০১৯-২০ সালের প্রাপ্ত অনুদান ৬% বৃদ্ধি পেয়েছে। কংগ্রেসের অনুদান ২০১৮-১৯ সালের ১৪৬.৭৮ কোটি টাকা থেকে কমে ২০১৯-২০ তে ১৩৯.০১ কোটি টাকা হয়েছে। টানা সাত বছর ধরে বিজেপি সর্বাধিক পরিমাণ কর্পোরেট ও ব্যক্তিগত অনুদান পেয়েছে। ২০১৯-২০ সালে বিজেপির প্রাপ্ত অনুদানের মোট পরিমাণ ৭৫০ কোটি টাকার বেশি হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এই প্রতিবেদনে কেবল সেসব ব্যক্তি, সংস্থা, নির্বাচনী ট্রাস্ট এবং অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যই দেয়া হয়েছে, যারা ২০,০০০ টাকার বেশি অনুদান দিয়েছে। বিজেপির সবচেয়ে বড় অনুদানকারীদের মধ্যে ছিল বিজেপি সাংসদ রাজীব চন্দ্রশেখরের জুপিটার ক্যাপিটাল, আইটিসি গ্রুপ, রিয়েল এস্টেট সংস্থা ম্যাক্রোটেক ডেভেলপারস, বি জি শিরকে কনস্ট্রাকশন টেকনোলজি, প্রুডেন্ট ইলেক্টোরাল ট্রাস্ট, জনকল্যাণ ইলেক্টোরাল ট্রাস্ট ইত্যাদি।
https://www.jupitercapital.in/#OurStrength/2
https://www.itcportal.com/
https://www.lodhagroup.in/home/
https://shirkegroup.com/
https://www.hindustantimes.com/india-news/bjp-amasses-72-of-donations-from-electoral-trusts-in-2021-22-adr-report-101672407551933.html
নির্মাণ ব্যবসায়ী সুধাকর শেট্টির সাথে যুক্ত রিয়েল এস্টেট সংস্থা গুলমার্গ রিয়েল্টরস ২০১৯ সালের অক্টোবরে বিজেপিকে ২০ কোটি টাকা দিয়েছিল। ২০২০ এর জানুয়ারিতে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট শেট্টির অফিস এবং বাসভবনে অভিযান চালিয়েছিল।
https://biz.crast.net/dhfl-%E2%82%B934615-crore-loan-fraud-case-money-laundering-through-87-shell-firms/
বিজেপির অনুদানকারীদের মধ্যে যেসব প্রধান শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো ছিল সেগুলোর মধ্যে রয়েছে মেওয়ার বিশ্ববিদ্যালয় (দিল্লি) (২ কোটি টাকা), কৃষ্ণা ইন্সটিটিউট অফ ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি (১০ লক্ষ টাকা), জি ডি গোয়েঙ্কা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল (সুরাট) (২.৫ লাখ টাকা), পাঠানিয়া পাবলিক স্কুল (রোহটক) (২.৫ লাখ টাকা), লিটল হার্ট কনভেন্ট স্কুল (ভিওয়ানি) (২১,০০০ হাজার টাকা) ও এলেন ক্যারিয়ার ইনস্টিটিউট (কোটা) (২৫ লাখ টাকা)।
https://www.allen.ac.in/
বিজেপিকে মুখ্য অনুদানকারীর তালিকায় যারা রয়েছে তাদের অনেকেই বিজেপির সদস্য। যেমন- হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী মনোহরলাল খট্টর (৫ লক্ষ), সাংসদ রাজীব চন্দ্রশেখর (২ কোটি), অরুণাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী প্রেমা খান্ডু (১.১ কোটি), কিরণ খের (৬.৮ লক্ষ), মণিপাল গ্লোবাল এডুকেশনের চেয়ারম্যান মোহনদাস পাই (১৫ লক্ষ)।
https://en.m.wikipedia.org/wiki/Manohar_Lal_Khattar
https://en.m.wikipedia.org/wiki/Rajeev_Chandrasekhar
https://en.m.wikipedia.org/wiki/Pema_Khandu
https://en.m.wikipedia.org/wiki/Kirron_Kher
https://en.m.wikipedia.org/wiki/T._V._Mohandas_Pai
২০১৯ সালের লোকসভা ভোটের আগে বিজেপি ইলেক্টরাল বন্ড থেকে ২,৪১০ কোটি টাকা তুলেছিল। তার আগে এই প্রকল্পে মোট যত টাকা জমা পড়েছে, তার ৯৫ শতাংশই পেয়েছে বিজেপি।
হিটলারের নাৎসি সরকারের সাথে সিমেন্স, আই জি ফারবেন, বায়েল, আইবিএম, ফোর্ড এর মতো কর্পোরেশনগুলো ব্যবসা চালিয়ে গিয়েছিলো সেসময়। ঠিক একইভাবে 'কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রি' উগ্র হিন্দুত্ববাদী গুজরাটের রাজ্য সরকারের পরিকল্পনাকে ২০০২ সালে সমর্থন দিয়েছিল। জম্মু ও কাশ্মীরের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লাহ সেসময় মোদীকে সমর্থন দিয়েছিলেন পদ বাঁচানোর উদ্দেশ্যে। রতন টাটা ও মুকেশ আম্বানী 'গুজরাট গরিমা' নামের একটি অনুষ্ঠানে মোদীকে সরাসরি সমর্থন জানিয়েছিলেন। ২০০৯ সালের সাধারণ নির্বাচনে মোদীর প্রচারণায় এসব ব্যবসায়ী ২০০ কোটি ডলার ব্যয় করেছিল। এমনকি নিম্ন বর্ণের হিন্দুদের অতি প্রিয় নেত্রী মায়াবতীও তার রাজ্যে বিজেপির সাথে সম্পর্ক আরও শক্ত অবস্থানে নিয়ে গিয়েছিলেন সেসময়।
...................................................................................................
..........................................................................................
"মানুষ যখনই চায় বস্ত্র ও খাদ্য
সীমান্তে বেজে ওঠে যুদ্ধের বাদ্য"
- শৈবাল মিত্র
"রাষ্ট্রে-রাষ্ট্রে লড়াই দু-দেশের নাগরিকদের পরস্পরকে ঘৃণা করতে শেখায়। রাষ্ট্রের লাগাতার প্রচারে জনতা জাতীয়তাবোধের জ্বরে আক্রান্ত হয়। ভাবতে শুরু করে এ'যুদ্ধ তার নিজের যুদ্ধ। জনতা ভাবে - জনগণই এই রাষ্ট্রের সার্বভৌমতার ধারক-বাহক-আধার। জনগণই রাষ্ট্র। অথচ মজাটা হলো, শ্রেণীবিভক্ত সমাজে রাষ্ট্র মুষ্টিমেয় ধনিক শ্রেণীর রাজনৈতিক ক্ষমতার হাতিয়ার।....
শোষক ও শোষিতের শ্রেণীতে বিভক্ত সমাজে 'রাষ্ট্রশক্তি' মানে অর্থনৈতিক আধিপত্যশীল শ্রেণীর একনায়কত্ব বজায় রাখার শক্তি। বাস্তবে এই রাষ্ট্রশক্তি জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন ও অর্থনৈতিকভাবে জনশোষণ বজায় রাখার শক্তি। প্রাচীন যুগে রাজায় রাজায় যুদ্ধ হতো। তাতে সাধারণ প্রজাদের মধ্যে জাতীয়তাবাদের কোনও হেলদোল ছিল না। এক রাজা যেতো, আর এক রাজা আসতো। সাধারণ প্রজারা রাজা বদলের খবরও রাখতো না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্র নিপুণ কৌশলী হয়েছে। নাগরিকদের মধ্যে 'জাতীয়তাবোধ', 'জাতীয় চেতনা' ইত্যাদি অদ্ভুত মোহময় শব্দের গোলাগোলা ধারণা ঢুকিয়ে দিয়েছে। এই 'জাতীয় চেতনা' হুজুর শ্রেণীর ধনী জাতের চেতনার সঙ্গে মজুর শ্রেণীর গরীব জাতের চেতনা, শোষকদের চেতনার সঙ্গে শোষিতের চেতনাকে পরিকল্পিতভাবে একাকার করে দিয়েছে। একই পংক্তিতে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। ফলে বারবারই শব্দব্রহ্মের গোলকধাঁধায় আবেগতাড়িত গরীব জাতির মানুষ তাদের নিজ গোষ্ঠীর জাতীয় চেতনা, শ্রেণীচেতনা ভুলে শোষক ধনী জাতীয় মানুষদের সঙ্গে সামিল হয়েছে। শ্রেণীবিভক্ত সমাজকে টিকিয়ে রাখতে 'রাষ্ট্র' শব্দটির যে সংজ্ঞাটিকে টিকিয়ে রাখার প্রক্রিয়া চলেছে, তা হলো - 'রাষ্ট্র' মানে নির্দিষ্ট ভূখণ্ড, ভূখণ্ডের জনগণ, সরকার ও সার্বভৌমত্ব। এই 'রাষ্ট্র' সংজ্ঞার সঙ্গে সাম্য চিন্তার মানুষদের 'রাষ্ট্র' সংজ্ঞা মেলে না।"
- 'দুই বাংলার যুক্তিবাদীদের চোখে ধর্ম'
(২০১৭ সালের ৩ জুন, গণশক্তি পত্রিকায় বিশ্বজিৎ দাস এর লেখা)
আসামে ক্ষমতায় আসার এক বছর পূর্ণ করলো বিজেপি সরকার। কিন্তু এক বছরে একটি প্রতিশ্রুতিও রক্ষা করেনি বিজেপি সরকার। বেহাল রাস্তাঘাট থেকে বিপর্যস্ত বিদ্যুৎ পরিষেবা, কোনো ক্ষেত্রেই এক ইঞ্চিরও উন্নতি হয়নি। উলটো রাজ্যের সম্পদ বিক্রি করে দিয়েছে সনোয়াল সরকার। কংগ্রেস জমানায় বন্ধ কলকারখানার একটিও খোলেনি। নতুন করে আরও বন্ধ করা হয়েছে কারখানা। গত এক বছরে রাজ্যের বিজেপি সরকার কৃষকদের সঙ্গে সবচেয়ে বড় প্রতারণার নজির গড়েছে। জাতি-মাটি-ভেটি রক্ষা করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসে এখন বেপরোয়াভাবে কৃষক উচ্ছেদ অভিযান চালাচ্ছে। সশস্ত্র পুলিশ নামিয়ে কৃষকদের গুলি করে হত্যা করে জমি থেকে উচ্ছেদ চালানোর নজির গড়েছে বিজেপি-র এই দানবীয় সরকার। গত জানুয়ারি থেকে মার্চ মাস মাত্র তিন মাসে প্রায় পাঁচ হাজার কৃষক পরিবারকে উচ্ছেদ করেছে। কাজিরাঙায় দুজন কৃষক হত্যা করে ৩০ জনের বেশি কৃষক ও নারী কৃষককে আহত করে জমি দখলে নিয়েছে সরকার। একইভাবে চিরাং, নগাঁও, মরিগাঁও জেলায়ও উচ্ছেদ চালিয়েছে। রাজ্য সরকার সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিকোণ থেকেই এই উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে। কারণ উচ্ছেদ হওয়া কৃষকদের আশি শতাংশই ধর্মীয় সংখ্যালঘু। এদেরকে বাংলাদেশি তকমা দিয়ে উচ্ছেদ করা হয়েছে। যদিও পরে প্রমাণিত হয়েছে উচ্ছেদ হওয়া প্রতিটি পরিবারই কয়েক যুগ ধরে এ দেশে বসবাস করছেন। কৃষকদের জমি থেকে উচ্ছেদ করে পতঞ্জলি ট্রাস্টের মালিক রামদেবের হাতে অধিকাংশ জমি তুলে দিয়েছে এই সরকার। একটি অংশ বহুজাতিক সংস্থার হাতে দিয়েছে। চিরাং জেলায় সরকারি আইন লঙ্ঘন করে ৩,৮২৮ বিঘা জমি রামদেবকে দেওয়া হয়েছে। রামদেব নাকি এই জমিতে গোমূত্র নিয়ে গবেষণাগার খুলবেন। এছাড়া পঞ্চগব্য তৈরির কারখানা খুলতে রামদেবকে জমি দিয়েছে সরকার। যে সকল কৃষকদের উচ্ছেদ করা হয়েছে এদের আজ পর্যন্ত পুনর্বাসন দেয়নি। এই কৃষকরা স্ত্রী-সন্তান নিয়ে খোলা আকাশের নিচে জীবন কাটাচ্ছেন । আসামের মাটির নিচে আছে প্রচুর পরিমাণ খনিজ তেল। এত বছর ধরে এই তেল উত্তোলন করে পরিশোধনের পর বাজারজাত করত আসাম অয়েল এবং ওএনজিসি। বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর তেলকূপগুলি দেশি-বিদেশি বেসরকারি সংস্থার হাতে বিক্রি শুরু করেছে। গত এক বছরে ১২টি তৈলকূপ বিক্রি করে দিয়েছে। অথচ মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সনোয়াল, মন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা যখন আসু সংগঠন করতেন, তখন তারা স্লোগান দিতেন- 'তেজ দিম, তেল নিদিম' অর্থাৎ রক্ত দেব, কিন্তু তেল দেব না। এখন ক্ষমতায় এসে তেলকূপ বিক্রি শুরু করেছে তারা। বিজেপি ক্ষমতায় আসার মাত্র ১৫ দিনের মাথায় ১২৭টি অত্যাবশ্যকীয় সামগ্রীর উপর এক শতাংশ ভ্যাট বৃদ্ধি করে জিনিসপত্রের দাম আরও বাড়িয়েছে। অথচ নির্বাচনের আগে বলেছে মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যবস্থা নেবে। রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ শিল্প চা বাগানগুলি বেসরকারি মালিকদের হাতে বিক্রি করে দিচ্ছে। চা বাগানের শ্রমিকরা অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন। অভাবের কারণে বিনা চিকিৎসায় চা শ্রমিকদের মৃত্যু ঘটছে। অথচ এক পয়সা মজুরিও বৃদ্ধি করেনি। রাজ্যের ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় চা শ্রমিকদের মজুরি ১০৫ টাকা, আর বরাক উপত্যকায় ৯৫ টাকা। প্রধানমন্ত্রী মোদীর ক্যাশলেস অর্থনীতি চালু করতে গিয়ে চা শ্রমিকদের মজুরি ব্যাঙ্ক মারফত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এই সুযোগে বাগান মালিকরা ব্যাঙ্কে নিয়মিত মজুরির টাকা জমা দিচ্ছে না। ফলে নিয়মিত মজুরি থেকে বঞ্চিত চা শ্রমিকরা। বিগত কংগ্রেস সরকারের আমলে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার আসামের জন্য রেগার বরাদ্দ কমিয়ে দেয়। নির্বাচনের সময় রেগার কাজ বন্ধের জন্য সব দায় কংগ্রেসের ঘাড়ে চাপিয়ে বলে বিজেপি ক্ষমতায় এলে একশো দিনের কাজ নিশ্চিত করবে তারা। এবার ক্ষমতায় এলেও অবস্থা কংগ্রেস জমানার চেয়েও খারাপ। গত এক বছরে সরকারি কাগজপত্রে বলা হচ্ছে ১৫ দিন কর্মদিবস তৈরি হয়েছে। বাস্তবে আরও কম। রাজ্যের মধ্যাহ্ন ভোজন কর্মীদের মাসিক পারিতোষিক মাত্র এক হাজার টাকা। তাও বছরে দশ মাস দেওয়া হয়। বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর মধ্যাহ্ন ভোজন কর্মীদের এক পয়সাও পারিতোষিক দেয়নি। বরং ওই প্রকল্প রাজস্থানের অক্ষয় পাত্র ফাউন্ডেশনের হাতে তুলে দেওয়া শুরু হয়েছে। এতে রাজ্যের ১ লক্ষ ১৪ হাজার মধ্যাহ্ন ভোজন কর্মী কাজ হারানোর আশঙ্কায়। অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের ৩০০০ ও সহায়িকাদের ১,৫০০ টাকা পারিতোষিক দেওয়া হয়। গত ছয় মাস থেকে তাও বন্ধ। পারিতোষিক বৃদ্ধির দাবিতে চলতি মাসে টানা ৮ দিন বিক্ষোভে বসেছিলেন কর্মীরা। তাদের দাবি না মেনে লাঠিচার্জ করে, জলকামান ছেড়ে তাড়িয়ে দিয়েছে সরকার। রাজ্যে টেট উত্তীর্ণ শিক্ষকের সংখ্যা ৩১ হাজার। তাদের নিযুক্তি দিচ্ছে না। সাড়ে ৫ হাজার কম্পিউটার শিক্ষককে চাকরি থেকে ছাঁটাই করে দিয়েছে। ভেঞ্চার স্কুল প্রাদেশিকীকরণ আইন বাতিল করে প্রায় ৫৫ হাজার শিক্ষক-অশিক্ষক কর্মচারীকে পথে বসিয়ে দিয়েছে। হিন্দুস্তান পেপার কর্পোরেশনের অধীন রাজ্যের তিনটি কাগজকল বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এগুলি বিক্রি হয়ে গেলে স্থায়ী অস্থায়ী মিলে প্রায় ৮ হাজার শ্রমিক কর্মচ্যুত হবেন। রেশনে চিনি, কেরোসিনও বন্ধ। খাদ্য সুরক্ষার চালও নিয়মিত দেওয়া হয় না। ৩ টাকা দরে চাল ৪-৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দিনে ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পরিষেবা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিজেপি। গত এক বছরে এক মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করেনি সরকার। রাজ্যের ভাঙাচোরা সড়কগুলির অবস্থা এখনও বেহাল। বিদেশি সমস্যা সমাধানে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এন আর সি-র কাজ শুরু হয়েছিল। বিজেপি ক্ষমতায় এসে এন আর সি-র কাজে বাধা দিচ্ছে। ক্ষমতায় এলে রাজ্যের ডিটেনশন ক্যাম্পগুলি গুঁড়িয়ে দেবেন, বলেছিলেন মোদী। কিন্তু ক্ষমতায় এসে ৬০ থেকে ১০০টি ডিটেনশন ক্যাম্প তৈরি করেছে বিজেপি সরকার। বিনা দোষে সহস্রাধিক ভারতীয় ডিটেনশন ক্যাম্পে দিন কাটাচ্ছেন। রাজ্যের সংখ্যালঘুদের যখন তখন বিদেশি নোটিস ধরিয়ে ডিটেনশন ক্যাম্পে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। নাগরিকত্ব, এন আর সি ইস্যুকে কেন্দ্র করে অসমীয়া-বাঙালিদের মধ্যে সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে চাইছে খোদ সরকার। মুসলিম অংশের বিরুদ্ধে প্রায় প্রতিদিন বিদ্বেষ ছড়াচ্ছেন মন্ত্রীরা। আসামের সম্পদ রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসে প্রথম ধাপে রাজ্যের ১২টি তৈলকূপ দেশি-বিদেশি বেসরকারি কোম্পানির হাতে বিক্রি করতে নিলাম ডেকে বসে। এই নিলামে সরকারি সংস্থা ও এন জি সি ও ওয়েল ইন্ডিয়া লিমিটেডকে বাইরে রাখা হয়। ওই তৈলকূপগুলির নিচে প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকার তেল মাত্র ৪ হাজার কোটি টাকায় বিক্রি করার উদ্যোগ নেয় বিজেপি সরকার। এছাড়া, সনোয়াল সরকার তার প্রথম বাজেটে সামাজিক খাতে ব্যয় বরাদ্দ বহুগুণ কমিয়ে দেয়। স্বাস্থ্য ও শিক্ষাখাতেও অর্থ বরাদ্দ যথেষ্ট কমিয়ে দিয়েছে। রাজ্যের মিড-ডে মিল প্রকল্পটি বেসরকারি সংস্থার হাতে তুলে দেওয়ার প্রস্তাব প্রথম বাজেটে নিয়ে ফেলে। এর ফলে রাজ্যের ১২ হাজার মধ্যাহ্ন ভোজন কর্মচারীকে চাকরি থেকে ছাঁটাই করা হবে বলেও জানায়। কাঁচামালের অভাব দেখিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা হিন্দুস্তান পেপার কর্পোরেশনের অধীন পাঁচগ্রাম কাছাড় কাগজকল ও নগাঁও-এর জাগীরোড কাগজকল বিলগ্নিকরণের সিদ্ধান্ত নেয়। এই শিল্পে কর্মরত প্রায় ৫ হাজার স্থায়ী-অস্থায়ী কর্মীদের ছাঁটাই করারও উদ্যোগ নিয়েছে। প্রায় ৭০০ কোটি টাকা লোকসানে চলার অজুহাত তুলে আসাম রাজ্য পরিবহন মিশন বেসরকারি সংস্থার হাতে তুলে দিতেও বাজেট আলোচনায় বসেন রাজ্যের পরিবহনমন্ত্রী। এই স্বল্প সময়ের মধ্যে রাজ্যবাসীকে দেওয়া সমস্ত প্রতিশ্রুতির উলটো পথে হেঁটে অর্থনৈতিক বোঝা চাপিয়ে দিতে শুরু করেছে বিজেপি সরকার। অন্যদিকে, প্রকাশ্যে বিভেদের রাজনীতিতে নেমেছে আসাম সরকার। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ২০১৫ সালের মার্চ মাস থেকে রাজ্যে জাতীয় নাগরিক পঞ্জি নবায়ন কাজ শুরু হয়েছে। ১৯৮৫ সালে গৃহীত আসাম চুক্তিকে মান্যতা দিয়ে ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চকে ভিত্তি বর্ষ ধরে নাগরিক পঞ্জি (এন আর সি) নবায়নের কাজ করতে দেশের শীর্ষ আদালত নির্দেশ দিয়েছে। এই কাজে রাজ্যের স্বরাষ্ট্র সচিব প্রতীক হাজেনাকে কো-অর্ডিনেটর হিসেবে নিযুক্ত করেছে শীর্ষ আদালত। এন আর সি নবায়নের নামে কোনো প্রকৃত ভারতীয় যাতে হয়রানির শিকার না হয়, সেদিকে নজর রাখতে প্রথম থেকেই দাবি জানিয়ে আসছে বামপন্থী দলগুলি-সহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল। কিন্তু একমাত্র বিজেপি শুরু থেকেই এন আর সি নিয়ে জলঘোলা করতে শুরু করে। নির্বাচনের আগে এন আর সি'র ভিত্তি বর্ষ নিয়ে দ্বৈত অবস্থান নেয় বিজেপি। উগ্র-অসমীয়া সংগঠনগুলির সঙ্গে হাত মিলিয়ে উজান আসামে প্রচার চালায় তারা। এখানে নির্বাচনি প্রচারে বলা হয়, ক্ষমতায় এলে ১৯৫১ সালকে ভিত্তি বর্ষ করা হবে। আবার ভাষিক সংখ্যালঘু অধ্যুষিত বরাক উপত্যকায় ২০১৪ সালকে ভিত্তিবর্ষ করার কথা বলে বিজেপি। এভাবে আসাম চুক্তিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দ্বিমুখী অবস্থান নিয়ে প্রচার চালায়। ক্ষমতায় এসে প্রতীক হাজেনাকে দিয়ে একটি মৌখিক ঘোষণা দিয়ে জানায়, আসামে দুই ধরনের নাগরিক সৃষ্টি করা হবে। আসামে যাঁরা অসমীয়া তাঁরা নাকি ঘিগঞ্জিয়া (অর্থাৎ আদি বাসিন্দা), তাই এনআরসি ও ভোটার তালিকায় তাঁদের নামের পাশে ইংরেজি শব্দ 'ও' 'ওয়াই' (ওরিজিনাল ইনহেবিট্যান্ট) থাকবে। বিজেপি'র চোখে রাজ্যে অসমীয়া ছাড়া বাকিরা উদ্বাস্তু। তাই ওরা আদি বাসিন্দা নয়। এদের নামের পাশে এন ওয়াই (নন-ওরজিনাল ইনহেবিট্যান্ট) শব্দ বসানো হবে। অর্থাৎ, এন আর সি নবায়নে রাজ্যে নাগরিক ভাগাভাগিতে নেমে পড়েছে খোদ সরকার। এতে বাঙালি, মণিপুরি, মার, ডিমাসা, কার্বিসহ অন্যান্য নন-অসমীয়ারা দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকে পরিণত হওয়ার আশঙ্কায় ভুগছেন। এর মধ্যে বিদেশি শনাক্তকরণের নামে ধর্মীয় ও ভাষিক সংখ্যালঘুদের যখন-তখন গ্রেফতার করে ডিটেনশন ক্যাম্পে পুরে দিচ্ছে রাজ্য সরকারের পুলিশ। চাকরিজীবী থেকে শুরু করে স্বাধীনতা সংগ্রামীদেরও জেলে পুরছে পুলিশ। এন আর সি-কে কেন্দ্র করে রাজ্যের যাঁরা অসমীয়া নন তাঁরা আতঙ্কে দিশাহারা। এক বছরের এই কার্যকালে দাঁড়িয়ে ২৬শে মে শুক্রবার ঘটা করে বর্ষপূর্তি পালন করেছে সরকার। এজন্য গুয়াহাটিতে রাজসূয় যজ্ঞ শুরু হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে জলের মতো টাকা খরচ হচ্ছে। রাজ্যে সংবাদপত্রগুলোতে প্রতিদিন পাতাজোড়া বিজ্ঞাপন দেওয়া হচ্ছে। সরকারি টাকায় ওই বিজ্ঞাপনে সনোয়াল, হিমন্ত'র ছবি জ্বলজ্বল করছে। এই বিশাল অঙ্কের টাকা খরচ হচ্ছে সরকারি কর্মীদের বেতন থেকে। রাজ্যের প্রাথমিক স্কুল শিক্ষকদের এপ্রিল মাসের বেতন আটকে দিয়ে ওই টাকা দিয়ে বর্ষপূর্তি করছে বিজেপি সরকার।
বিজেপি তালেবান ভাই ভাই!





Comments