ইউরো কমিউনিজম এর স্বরূপ বুঝতে অর্থাৎ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা বামপন্থী দলগুলোর ক্ষমতার দৌঁড় বুঝতে নেরুদার স্মৃতিকথার শরণাপন্ন হওয়া যাক। ইতালির মিউনিসিপ্যালিটির নির্বাচনে বামপন্থীরা জেতার পরও নেরুদাকে কেন্দ্র কর্তৃক পুলিশ দিয়ে হেনস্থার সময় এরা কিছুই করতে পারেনি মিনমিনে আনুগত্য দেখানো ছাড়া। পরে জনতার প্রবল চাপের মুখে ইতালির সরকার বাধ্য হয় নেরুদাকে ইতালি অবস্থান করার অনুমতি দিতে। তখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন দে গাস্পেরি।
https://en.m.wikipedia.org/wiki/Alcide_De_Gasperi
ফিনল্যান্ডের সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক (যেই সোশ্যাল ডেমোক্রেটদের নির্বাচনে জেতার পর উপমহাদেশের নির্বাচনপন্থী বামেরা গর্ব করে পোস্ট দেয়) পার্টির চেয়ারম্যান এবং প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী সানা মারিন বন্ধুদের নিয়ে ড্রাগসসহ উদ্দাম পার্টিতে ব্যস্ত!
এই পাড়ের নির্বাচনপন্থী হাজিদের অনুরূপ ঐ পাড়ের দীপ্সিতা ধর এবং তাদের মতো নির্বাচনপন্থীদের ধর্ম তোষণ নীতি চোখে আঙ্গুল দিয়ে কমিউনিজম আর বামগিরির মধ্যে পার্থক্য দেখিয়ে দেয়ার জন্য যথেষ্ট।
 |
পশ্চিমাদের দালাল সরকারের ভুঁইফোড় উপদেষ্টাদের এই বৈঠকে ছিল ছাত্র ফেডারেশন, ছাত্র ইউনিয়ন আর সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট এর বামেরা
|

উপমহাদেশের দেশগুলোর অনেকেই যৌবনে বাম ধারার রাজনীতির সাথে জড়িত থাকলেও প্রৌঢ় অবস্থায় পৌঁছালে ধর্ম চর্চা শুরু করেন। বিখ্যাত রুশ সাহিত্যিক দস্তয়েভস্কির ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। সাইবেরিয়া থেকে শাস্তি ভোগ করে আসার পর তিনি ধীরে ধীরে কট্টর খ্রিস্টানে পরিণত হন। তার অন্যতম শ্রেষ্ঠ কৃতি হিসেবে গণ্য এই বইটিতে তিনি চরিত্রগুলোর মুখ দিয়ে সমাজতন্ত্রের বিষোদ্গার করেছেন বহুবার এবং দেখাতে চেয়েছেন সমাজতন্ত্রীরা নাস্তিক দেখেই তাদের মধ্যে নাকি কোনো ধরনের নীতিবোধ কাজ করে না! তিনি এটাও দেখাতে চেয়েছেন যে, কোনো সমাজে ধর্ম কিংবা সৃষ্টিকর্তার ধারনার অস্তিত্ব বিলীন হলে সেখানে নাকি অমানুষ পয়দা হয়ে অরাজকতা ঘটায়! অন্যদিকে লম্পট, মদ্যপ, সুদখোর, ভূমিদাস প্রথার সমর্থক ধার্মিকদের মধ্যে মানবতাবোধের অস্তিত্ব আবিষ্কার করেছেন! ঠিক যেমনটা মুসলমানদের দাবী অনুযায়ী, একজন মুসলমান হাজারটা অপরাধ করলেও সে জান্নাতে যাবে কিংবা হিন্দুদের ব্রাহ্মণরা! আবার ধার্মিকদের চারিত্রিক স্খলনের দিকটিকে হালকা করে প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে তিনি সেই চিরাচরিত রীতি অনুসরণ করে এর জন্য নারীদের ঘাড়ে দায় চাপিয়ে দিয়েছেন। এজন্যই এই লেখকের বই পড়া সোভিয়েত আমলে নিরুৎসাহিত করা হলেও এই অঞ্চলের নির্বাচনপন্থীদের কাছে প্রিয়পাত্র তিনি। কারণ তারা ধর্মগুলোর ক্ষতিকর দিক ও শোষণের মাধ্যম হিসেবে সেগুলোর প্রায়োগিক ক্ষেত্রগুলো তুলে ধরার পরিবর্তে নিজেরা একদিকে যেমন ব্যক্তিগত জীবনে ধর্মীয় রীতির চর্চা করে, আবার অনেকে নিধার্মিক হয়েও বুর্জোয়া পার্লামেন্টের কয়েকটা সিটের জন্য লালায়িত হয়ে ধার্মিক তোষণ লাইনের চর্চা করে।
...........................................................................
শি জিন পিং, দেঙ জিয়াওপিং প্রভৃতি কাল্ট ফিগারের ব্যাপারে অবসেশনে আক্রান্ত বামেদের এটা পড়া উচিত। সাম্রাজ্যবাদী চীনকে দুনিয়ার নির্যাতিত মানুষের শত্রু হিসেবে উল্লেখ করে এই দলিল প্রকাশ করে সিপিআই (মাওবাদী)। দলিলে চীনকে 'একটি নয়া সামাজিক সাম্রাজ্যবাদী শক্তি' আখ্যা দেয় সিপিআই (মাওবাদী)। এই দলিলের শিরোনামে লেখা হয়েছে চিন ‘বিশ্বের পুঁজিবাদী-সাম্রাজ্যবাদী ব্যবস্থারই অংশ’। উপমহাদেশের বুর্জোয়া ও এর দ্বারা প্রভাবিত রাজনৈতিক শিবিরের একটি বড় অংশ মনে করে বিশ্ব বাণিজ্যে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যেতে চীন মাও এর পথ ছেড়ে ঠিকই করেছে! এর ফলেই নাকি মার্কিনিদের চোখে চোখ রেখে কথা বলার মতো অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক শক্তি অর্জন করতে পেরেছে তারা! ভারতের মাওবাদীদের কেন্দ্রীয় কমিটির বিশ্লেষণের ফসল এই দলিল তৈরি হয় ২০১৭ সালে। এতদিন তেলুগু ছাড়া অন্য কোনও ভাষায় তা প্রকাশ করা হয়নি। নিজেদের এই বিশ্লেষণ সমাজে ছড়িয়ে দেয়ার উদ্দেশ্যে ইংরেজিতে অনুবাদ করে সিপিআই (মাওবাদী)। দলিলের মুখবন্ধে মাওবাদীদের কেন্দ্রীয় কমিটি জানিয়েছে, সাম্রাজ্যবাদী চিন দুনিয়ার নির্যাতিত মানুষের শত্রু। বলা হয়েছে বিশ্বজুড়ে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের লক্ষ্যে যারা লড়ছে, সেই মার্ক্সবাদী-লেনিনবাদী এবং মাওবাদী দলগুলোর যুদ্ধের নিশানা হবে বর্তমান চীন। মাওবাদীদের মতে, সাম্রাজ্যবাদী চীন পিছিয়ে পড়া দেশে যুদ্ধাস্ত্র ও পুঁজি রফতানি এবং অসম বাণিজ্য চাপিয়ে দেয়ার মধ্য দিয়ে দেশগুলোর প্রাকৃতিক সম্পদকে গ্রাস করছে। সেসব দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়েও নাক গলাচ্ছে তারা। এমনকি সেসব দেশে সামরিক ঘাঁটি গড়ে তোলার জন্য উপযুক্ত সুযোগেরও অপেক্ষা করছে। বস্তুত মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নেমেছে চীন। ভারতের সিপিএম ছাড়াও বাংলাদেশের কিছু নির্বাচনপন্থী বাম সংগঠনের মতে এখনও চীন সমাজতান্ত্রিক! চীনের কমিউনিস্ট পার্টি তাদের দেশকে ‘চৈনিক বৈশিষ্ট্য সমেত সমাজতান্ত্রিক’ আখ্যা দিয়েছে! কিন্তু মাওবাদী তাত্ত্বিকরা এই অভিধা নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেছেন তাদের দলিলে।
https://terabox.com/s/1Q4H65IIpreA_ud0k2XajSg?fbclid=IwZXh0bgNhZW0CMTEAAR0FRpycywtmKVRdcN3I6gInRVcNufnUVI5t7CLTGqVYKzO82ApqkCFrdMk_aem_OCikosyMPck1-W5eExwdJQ
নির্বাচনপন্থীদের মহা প্রিয়পাত্র শি জিনপিং'কে ট্রাম্প 'গ্রেট লিডার' বলে উল্লেখ করেছিলেন যখন তিনি ২০১৭ সালের ১৯তম পার্টি কংগ্রেসে আবারো সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন! এমনকি ট্রাম্প তাকে রাজার সঙ্গে তুলনা করেছিলেন! [সূত্র: গার্ডিয়ান, ২৫ অক্টোবর, ২০১৭]
তথাকথিত এই কমিউনিস্ট নেতা আজ পর্যন্ত কতবার উত্তর কোরিয়াকে আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা বন্ধের আহবান জানিয়েছে সেই খবর কি নির্বাচনপন্থী বামেরা রাখে? শুধু তাই নয়, এই নেতা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের একটা সিদ্ধান্তের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সব ধরনের ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছিলেন।
.......................................................................

নির্বাচনপন্থী বামেদের চরিত্র দেশে দেশে একই। বাংলাদেশের বামেরা পশ্চিমা বিরোধী আসাদ সরকারের পক্ষে গলাবাজি করলেও নিজের দেশের আমেরিকা বিরোধী সরকারকে সরাতে যেমন জঙ্গিদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করলো, সিরিয়ার বামেরাও আসাদকে সরাতে 'ন্যাশনাল কোঅর্ডিনেশন কমিটি' নামের আড়ালে জঙ্গিদের সাথে সমান তালে কাজ করে যাচ্ছে একেবারে প্রথম থেকেই। এসব বামেরা যে নিয়মিত ইজরায়েল আর পশ্চিমাদের সাহায্য পাচ্ছে তা অনেকগুলো গণমাধ্যমে উঠে এসেছে।
এবার বাসদের কোরবানি উৎযাপন দেখা যাক-
.................................................................................

ইচ্ছা করেই ফটো আর নাম ব্লার করিনি এটা দেখাতে যে, কেবল মুহাম্মদ-কৃষ্ণকে টিটকারি দেয়াই উপমহাদেশে 'মুক্তমনা' হওয়ার মানদণ্ড! কোনও সংগঠন কর্তৃক একটা দেশের সেনাবাহিনীর সদস্যদের উপর আক্রমণের সাথে 'মানুষ' হওয়ার সম্পর্ক কি! তাছাড়া মুসলিম জঙ্গিরা যে এদের সাথে যোগ দিয়েছে সমতল থেকে পালিয়ে এসে সেই খবর কি এরা রাখে?
উগ্র জাতীয়তাবাদ এর বহিঃপ্রকাশ আরেকবার দেখেছিলাম এক বাম এর টাইমলাইনে, বিশ্বকাপের সময় যিনি লিখেছিলেন বাংলাদেশের পাহাড়িরা জাপানকে সমর্থন দিচ্ছে চেহারার মিল থাকার কারণে মূলত!
আধুনিক কৃষি পদ্ধতির অনুপস্থিতিতে জুম চাষে উৎপাদনের পরিমাণ সমতল থেকে তুলনামূলকভাবে অনেক কম দেখে সুযোগটা নেয় বাঙালি ব্যবসায়ীরা (হিন্দু, মুসলমান এবং বড়ুয়া সম্প্রদায়)। তারা লিখিত চুক্তি তৈরী করে সরল পাহাড়ি কৃষকদের সাথে যেখানে লেখা থাকে কেবল তাদের দোকান থেকে চাল, ডাল ইত্যাদি সবকিছু কিনতে হবে এবং ধানের মাধ্যমে মূল্য পরিশোধ করতে হবে (চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ পরিশোধ করার শর্ত থাকে)। পাহাড়িদের জন্য সরকার ব্যাংকগুলোতে বার্ষিক ৫ টাকা হারে সুদ নির্ধারণ করে দিলেও এসব জোঁকেরা মাসে ১৫-২০ টাকা সুদ নির্ধারণ করে! ১০০ টাকায় মাসে ২০ টাকা সুদ হলে এক বছরে সেটা হয় ২৪০ টাকা, অর্থাৎ সুদ আর আসল মিলে ৩৪০ টাকা!
বৈসাবি (কেবল তিন সম্প্রদায়ের) আর অন্যান্য পাহাড়ি জাতির উৎসবের সময় যেসব পাহাড়ি স্বর্ণ বন্ধক রাখে বাঙালি ব্যবসায়ীদের কাছে তাদেরও বহু কষ্টে টাকা জমিয়ে তৈরী করা স্বর্ণ হারাতে হয়। চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ার কারণে এসব অসৎ ব্যবসায়ীরা 'খাদ' এর অজুহাত ছাড়াও নানা ধানাইপানাই করে পানির দরে বন্ধক দেয়া স্বর্ণ কিনে নেয়।
নিজেদের বামপন্থী দাবিকারী বাংলাদেশের উগ্র বাঙালিদের বিপরীতে প্রকৃত সমাজতন্ত্র আমাদের কি শিক্ষা দেয় সেটা দেখা যাক এবার-
“জাতি ও ভাষাসমূহের সমানাধিকার যে স্বীকার করে না এবং তার সপক্ষে দাঁড়ায় না, সর্বপ্রকার জাতীয় নিপীড়ন ও অসাম্যের বিরুদ্ধে লড়াই করে না, সে মার্কসবাদী নয়; এমনকি গণতন্ত্রীও নয়।”
- লেনিন (জাতিসমূহের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার)
“আমরা যদি একদিকে হাজার ঢঙে ঘোষণা ও পুনরাবৃত্তি করতে থাকি যে, সমস্ত জাতীয় অত্যাচারের আমরা ‘বিরোধী’, আর অন্যদিকে যদি নিপীড়কদের বিরুদ্ধে এক নিপীড়িত জাতির কোনো কোনো শ্রেণির অতি গতিশীল ও আলোকপ্রাপ্ত অংশের বীরত্বপূর্ণ বিদ্রোহকে ‘ষড়যন্ত্র’ আখ্যা দেই, তাহলে আমরা কাউটস্কিপন্থীদের মতো সেই একই নির্বোধ স্তরে নেমে যাবো।”
- লেনিন
“কমিউনিস্টদের সক্রিয়ভাবে সকল সংখ্যলঘু জাতিসত্তাসমূহের জনগণকে সংগ্রামে সাহায্য করতে হবে। তাদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক মুক্তি ও বিকাশের জন্য সাহায্য করতে হবে। তারা যাতে নিজস্ব সৈন্যবাহিনী গড়ে তুলতে পারে সে ব্যাপারেও তাদের সাহায্য করতে হবে। তাদের কথা ও লিখিত ভাষা, তাদের আচার-আচরণ ও রীতি-নীতি এবং তাদের ধর্মীয় বিশ্বাসকে সম্মান করতে হবে।”
- মাও সে তুঙ
জাতি সমস্যা সমাধানে অগ্রণী ভূমিকা রাখা স্তালিনের মৃত্যুর পর ১৯৫৬ সালে সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র সামাজিক সাম্রাজ্যবাদে এবং চীনে মাও এর মৃত্যুর পর পুঁজিবাদের পথগামীরা ক্ষমতা দখল করে সমাজতান্ত্রিক চীনকে পুঁজিবাদী রাষ্ট্রে পরিণত করে। এসব প্রজাতন্ত্রে পুনরায় জাতিগত নিপীড়ন শুরু হয় এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙ্গে খন্ড খন্ড হয়ে যায়। চীন ও রুশ সাম্রাজ্যে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের মধ্য দিয়ে জাতিগত সমস্যার সমাধান হয়েছিল। বলশেভিক পার্টি ও চীনা কমিউনিস্ট পার্টি জাতিগত মুক্তির প্রশ্নে সঠিক অবস্থান নিয়েছিল। লেনিন এবং মাও ঘোষণা করেছিলেন সকল নিপীড়িত জাতির বিচ্ছিন্ন হওয়ার অধিকার রয়েছে। সমাজতান্ত্রিক চীন থেকে “দুনিয়ার মজদুর এক হও”- শ্রমিক শ্রেণির এই রণনৈতিক স্লোগানকে সম্প্রসারণ করে স্লোগান তোলা হয়েছিল “সারা দুনিয়ার সর্বহারা এবং নিপীড়িত জাতি ও জনগণ এক হও”। লেনিন শিক্ষা দিয়েছিলেন জাতিগত অত্যাচারের বিরুদ্ধে শ্রমিকশ্রেণিকে লড়তে হবে এবং নিপীড়ক জাতির শ্রমিক শ্রেণিকে নিপীড়িত জাতির বিচ্ছিন্ন হওয়ার অধিকারকে সমর্থন করতে হবে। বিপ্লবপূর্ব রুশ সাম্রাজ্য ছিলো বহু জাতির দেশ। জারতন্ত্র কর্তৃক অন্যান্য জাতির উপর নিপীড়ন ছিল সীমাহীন। তাদের অর্থনেতিক অবস্থান এক ছিল না। জারের সাম্রাজ্যে সবসময় জাতিগত সংঘাত লেগে থাকতো। অবিকশিত জাতিসমূহ তখনো পর্যন্ত সামন্তীয় কাঠামোতে ছিল। আইনীভাবে জাতিগত সমতা এখানে ছিল ফাঁকা বুলি। বিপ্লবের মধ্য দিয়ে সোভিয়েত ইউনিয়নে সকল জাতিগোষ্ঠীর আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়। তাদের বিচ্ছিন্ন হওয়ার অধিকার দেয়া হয় স্বেচ্ছামূলক ঐক্য গড়ে তোলার উদ্দেশ্য থেকে। সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের মধ্য দিয়ে জাতিগত সৌহার্দ তৈরি হয়। প্রত্যেক জাতি অন্যান্য জাাতিকে সম্মানের চোখে দেখতে শুরু করে। বিপ্লবী সরকার জার কর্তৃক দখলীকৃত সমস্ত এলাকা থেকে সৈন্য প্রত্যাহার করে নেয়। সমস্ত অঞ্চলের জাতীয় বিকাশের পদক্ষেপ নেয়া হয় সোভিয়েত ইউনিয়নে। স্তালিনকে ট্রটস্কি-বুখারিনপন্থীদের বিরুদ্ধে অন্যান্য বিষয়ের সাথে সাথে জাতিগত সমস্যা নিয়ে সংগ্রাম করতে হয়েছিল। তারা ইউক্রেন, বিয়েলোরুশিয়া ও সামুদ্রিক অঞ্চল যথাক্রমে জার্মান, পোল ও জাপানীদের হাতে তুলে দেয়ার চক্রান্ত করে। সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব উগ্র জাতীয়তাবাদীদের পরাজিত করে সোভিয়েত ইউনিয়নের বহু জাতির মৈত্রীর পতাকা ঊর্ধ্বে তুলে ধরে এবং সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রসমূহের যুক্তরাষ্ট্র গঠন করে। আইনীভাবে জাতিগত সমতা এখানে ফাঁকা বুলি ছিল না। একইভাবে চীনা সমাজাতান্ত্রিক বিপ্লব তিব্বত, উইঘুরসহ চীনের সংখ্যালঘু নিপীড়িত জাতিসত্তাগুলোর মুক্তি দিয়েছিল।
অক্টোবর বিপ্লব জাতিগত প্রশ্নে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণ করে-
১। জাতিগত মুক্তি ঘটতে পারে কেবলমাত্র কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বে সর্বহারা বিপ্লবের মধ্য দিয়ে।
২। উগ্র জাতীয়তাবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম না করে প্রকৃত জাতিগত মুক্তি আন্দোলনকে সমর্থন করা যায় না।
৩। সাম্রাজ্যবাদ-সম্প্রসারণবাদ, আমলা-মুৎসুদ্দি পুঁজিবাদকে বিরোধিতা না করে প্রকৃত জাতীয় মুক্তির পক্ষে দাঁড়ানো যায় না।
৪। জাতীয় স্বাধীনতার মানে শুধু ভূখন্ডগত পৃথক রাষ্ট্র গঠন নয়; রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামরিক, সংস্কৃতিগত স্বাধীনতা।
৪। প্রতিটি নিপীড়িত জাতির মুক্তি সংগ্রামের পক্ষে দাঁড়ানো একটি আন্তর্জাতিকতাবাদী দায়িত্ব।
৫। প্রত্যেকটি জাতির তার নিজস্ব বিকাশের জন্য আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার রয়েছে। আর প্রকৃত আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারের অর্থ বিচ্ছিন্নতার অধিকার ব্যতীত আর কিছু হতে পারে না।
Comments