বাম রঙ্গ [পর্ব-এগারো]
...."ফরোয়ার্ড ব্লক মার্কসবাদী দল নয়" বলে কমিউনিস্ট পার্টি অফ ইন্ডিয়া (মার্কসিস্ট)-এর কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক হরকিষেণ সিং সুরজিৎ মন্তব্য করেন ৯ মে '৯৩ নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত 'কিউবা সংহতি কমিটি'র বৈঠকে। এক কিউবান কমিউনিস্ট পার্টির পলিটব্যুরোর নেত্রীর উপস্থিতিতে এমন বেমক্কা বাক্যবাণে মর্মাহত ফরোয়ার্ড ব্লকের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক চিত্ত বসু বলেন, "কোনও দলের নাম কমিউনিস্ট পার্টি হলেই সেই দল কমিউনিস্ট বা মার্কসবাদী হয়ে যায় না। সবকিছুই নির্ভর করে একটি দলের কাজকর্মের উপর।" এই খবর ১০ মে'র বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকার পাতায় পড়ে বুঝলাম, চিত্তবাবু খুবই কোমল চিত্তের মানুষ। অপ্রিয় সত্য বলে কাউকে ব্যথা দেওয়ার কথা ভাবতেই পারেন না। তাই সেদিনের অমন মহতী সভায় সোচ্চারে বলতে পারেননি - একটি মানুষের মার্কসবাদী হয়ে ওঠার প্রাথমিক ও আবশ্যিক শর্ত, তাকে যুক্তিবাদী হতেই হবে। নাস্তিক হতেই হবে। অন্ধ-বিশ্বাসের কাছে নতজানু হওয়া চলবে না। (এই প্রসঙ্গে অবশ্য এইটুকুও বলে রাখা ভালো - একটি মানুষকে যুক্তিবাদী হতে হলে মার্কসবাদী হতে হবে - এমন কোনও পূর্বশর্ত নেই)। এইসব আলটপকা অপ্রিয় সত্য কথাগুলো ছুড়ে দিলে শিখ ধর্মাচরণে নতজানু ধর্মীয় অনুশাসন মেনে পাগড়ি ও বালাধারী সফেদ দাড়ির হরকিষেণ সিং সুরজিৎ এবং তাঁকে দলের সর্বোচ্চ পদে বসানো সি পি এম পার্টি নিশ্চয়ই যথেষ্টর চেয়ে বেশি অস্বস্তিতে পড়তেন। অবশ্য যেটুকু মুখ চিত্তবাবু খুলেছেন, একটু সচেতনদের কাছে সেই ইশারাই 'কাফি হ্যায়'। সি.পি.এম-এর কাছে অবশ্য আশার কথা এই যে, চিত্ত বসুর এহেন বাক্যবাণেও কিউবান কমিউনিস্ট নেত্রীর কাছে সি.পি.এম-এর সম্মান একটুও টসকায়নি। কারণ কিউবার কমিউনিস্ট পার্টির এক নম্বর জাঁদরেল নেতা ফিদেল কাস্ত্রোও আর এক হরকিষেণ সিং সুরজিৎ। আর তাইতেই তো খ্রিস্টধর্মের জয়গানে মুখরিত কাস্ত্রো রচিত পুস্তকের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হলো সি.পি.এম-এর শ্রমিক সংগঠন সিটুর সদর দপ্তরে। ধর্মের বিরুদ্ধে যে মার্কস ছিলেন চির-সংগ্রামী, দৃঢ়তার সঙ্গে লিপিবদ্ধ করলেন শ্রেণি শোষণের সঙ্গে ধর্মের সম্পর্ক কত নিবিড়, কত দৃঢ়বদ্ধ - সেই মার্কসের তথাকথিত অনুগামী ভণ্ড মার্কসবাদীরা সমস্ত বঞ্চনার কারণ হিসেবে অদৃষ্ট বা ঈশ্বরীয় অলীক কোনও কিছুকে দায়ী করে নিজেদের দুর্নীতিকে, শ্রেণি শোষণকে আড়াল করে আখের গোছাতে চায় বলেই ধর্মের সঙ্গে মার্কসকে জড়িয়ে এক সংশোধিত মার্কসবাদকে হাজির করতে চাইছে। 'মার্কসবাদেও আছি, ধর্মেও আছি' নীতি নিয়ে যাঁরা চলেন, তাঁরা একে 'কৌশল' বা 'যুগোপযোগী' বলে যতই সোচ্চার হোন না কেন, মোদ্দা কথায় এই নীতি দুর্নীতি, স্ববিরোধিতা, দ্বিচারিতা। ধর্মকে আঘাত না করার ফিকির হিসেবে প্রচার করতে চাইছে - 'ধর্মকে আঘাত করলে জনগণের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে হবে।' এদেশে মার্কসবাদীরা ধর্মে আঘাত হানলো কবে? এমন পরীক্ষাহীন সিদ্ধান্ত কি তথাকথিত মার্কসবাদীদের অন্তঃসারশূন্যতা ও দেউলেপনাকেই প্রকট করে না?....
- 'সংস্কৃতি: সংঘর্ষ ও নির্মাণ', প্রবীর ঘোষ
..............................................................................................
"সাংস্কৃতিক বিপ্লব কী? এই বিষয়টা বোঝানোর জন্য চীনা সাংস্কৃতিক বিপ্লবের প্রসঙ্গ টেনে আনা একান্তই জরুরি বলে আমার কাছে মনে হয়েছে। কারণ চীনের সাংস্কৃতিক বিপ্লব পৃথিবীকে সবচেয়ে আলোড়িত করেছিল। চীনা সাংস্কৃতিক বিপ্লবে কেন নৈরাজ্যবাদী ঝোঁক দেখা দিয়েছিল, কেন সংস্কৃতিক বিপ্লব ব্যর্থ হয়েছিল, এটা আমার লেখার বিষয়বস্তু নয়। তবে এও জানি, চীনের সাংস্কৃতিক বিপ্লব ছিল যুদ্ধে নেমে, যুদ্ধ করতে করতে যুদ্ধবিদ্যা শেখার মতো একটা ব্যাপার। এটা হয় বহু জনযুদ্ধের ক্ষেত্রেই। যেখানে জনগণকে আগে যুদ্ধবিদ্যায় শিক্ষিত করে তুলে তারপর জনশত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামানো সম্ভব হয় না। তাতে প্রথমদিকে জনযোদ্ধাদের পক্ষে অবশ্যই যথেষ্ট ক্ষয়-ক্ষতি ঘটে, অনেক ভুল ভ্রান্তি হয়, কিন্তু বহু মানুষ এভাবেই যুদ্ধ করতে করতে যুদ্ধ করা শিখে ফেলে। আবিষ্কার করে ফেলে প্রথাগত যুদ্ধবিদ্যার ব্যাপারে নানা কৌশল। এমন যুদ্ধ কৌশলের সামনে প্রথাগত যুদ্ধবিদ্যাকেও যে পিছু হটতে হয়, এর উদাহরণ পৃথিবীর বহু দেশেই ছড়িয়ে রয়েছে। চীনের মুক্তি সংগ্রামও এভাবেই শুরু হয়েছিল এবং সম্পূর্ণ জয়ের মধ্য দিয়েই তার সমাপ্তি ঘটেছিল। সাংস্কৃতিক আন্দোলন করতে অভিজ্ঞতা অর্জনের চেষ্টায় যথেষ্ট প্রাথমিক ক্ষয়-ক্ষতি চীনের ক্ষেত্রে ঘটেছিল। অনিবার্য বিভিন্ন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সে আন্দোলন স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল, ক্ষয়-ক্ষতির কণ্টকময় পথ অতিক্রম করে বিজয়ের দিকে এগোতে পারেনি, অতএব সাংস্কৃতিক বিপ্লবের জয় ও সুফল অধরাই থেকে গেছে। প্রাক্তন রাশিয়া এবং ইউরোপের বিভিন্ন প্রাক্তন কমিউনিস্ট দেশগুলোর দিকে একবারের জন্য ঘুরে তাকান, তাকান চীনের দিকে। সর্বত্রই দেখতে পাবেন সাংস্কৃতিক বিপ্লবের অভাবে, সাংস্কৃতিক আন্দোলনের অভাবে সেইসব দেশে বিশেষ সুবিধাভোগী সম্প্রদায় গড়ে উঠেছে, গড়ে উঠেছে নেতাদের একনায়কতন্ত্র-স্বেচ্ছাচারিতা-স্বজন পোষণ, বিচ্যুতি-আখের গোছানোর প্রচেষ্টা-দুর্নীতি-প্রশ্নহীন আনুগত্য লাভের প্রয়াস। ফলে শেষ পর্যন্ত দেখা গেছে, ওসব দেশে বিপ্লবের পরিবর্তে ক্ষমতার হস্তান্তর ঘটেছিল শুধু। লাগাতার ভাবে সুসাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল গড়ে তোলার জন্য জনগণের চিন্তা, চেতনাকে যে খাতে বইয়ে নিয়ে যাওয়া অতি প্রয়োজনীয় ছিল, তা হয়নি। যে মানসিক শিক্ষার ও প্রস্তুতির সাহায্যে কুসংস্কার, আমলাতন্ত্র, নেতৃত্বের চ্যুতি, দুর্নীতি ও বঞ্চনাকে সরানো যেতো, সেই মানসিক শিক্ষা প্রচারের লাগাতার প্রচেষ্টা চালানো হয়নি। ফলে ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছে অপসংস্কৃতির এক পরিমণ্ডল। এরই সুযোগ নিয়ে ওসব দেশের সংস্কৃতিতে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে নানা ভোগসর্বস্ব ক্ষিদে। মগজ ধোলাই করে ওসব চিন্তাকে ঢুকিয়ে দিয়েছে শত্রু শিবিরের দেশগুলো। ফলে যা অবধারিত ছিল, তাই ঘটেছে। সর্বহারাদের স্বর্গরাজ্যের স্বপ্নগুলো একের পর এক হুড়মুড় করে ভেঙে পড়েছে।....
অনেক রাজনীতিকদেরই বক্তব্য হুজুর-মজুর সম্পর্কের টিকে থাকার ওপর যেহেতু অন্ধবিশ্বাস, কুসংস্কার, মগজ ধোলাই করে ঢোকানো গোলপাকানো চিন্তার অস্তিত্ব নির্ভরশীল, অতএব শ্রেণি সংগ্রামের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক ক্ষমতা দখল করতে পারলে এইসব অন্ধ সংস্কারের কুয়াশা কেটে যেতে বাধ্য। তাঁদের এই ধরনের চিন্তা ভ্রান্ত প্রমাণিত হয়েছে সাম্প্রতিককালের বহু সমাজতান্ত্রিক বলে ঘোষিত দেশের সরকারের মুখ থুবড়ে পড়ার ঘটনার মধ্য দিয়ে। কেন এমন হলো? রাজনৈতিক ক্ষমতা দখলের ওপরই যদি জনগণের চেতনার উন্মেষ নির্ভরশীল হতো, তবে সমাজতান্ত্রিক দেশের ক্ষেত্রে কেন তেমনটা ঘটলো না? সেক্ষেত্রে মানুষের চিন্তা কেন একমুখী হলো না? হলো না, কারণ পূর্ব ইউরোপের মার্কসবাদী দেশগুলোতে দীর্ঘ দিন ধরে মগজ ধোলাইয়ের প্রক্রিয়া চালিয়ে গেছে মার্ক্সবাদ বিরোধী আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র। সেসব দেশে ধৈর্যের সঙ্গে লাগাতার মার্কিন সংস্কৃতির গন্ধ পাঠানো হয়েছে। ভোগসর্বস্ব সংস্কৃতির গন্ধ পাঠানো হয়েছে, মানুষের চেতনায় নিরন্তর উত্তেজনাপূর্ণ জীবনযাপনের খোরাক পাঠানো হয়েছে। সে উত্তেজনা একান্ত সুখের উত্তেজনা, বহুর থেকে বাড়তি সুখ ভোগের উত্তেজনা; নাচ, গান, যৌনতা, যুদ্ধ, ধর্মীয় নেশা ইত্যাদি নানাভাবে পাওয়া উত্তেজনা। এই সব উত্তেজনার, এইসব ভোগসর্বস্ব চিন্তার এমনই মাদকতা যে মানুষ তখন আত্ম-সুখের বাইরে কিছু ভাবতেই চাইবে না। 'যেন তেন প্রকারেণ' নিজের আখের গোছানোর এই চিন্তার মধ্য দিয়েই তারা পরিচালিত হবে। বৃহত্তর সমস্যার প্রতি, অন্যের সমস্যার প্রতি তাকিয়েও দেখবে না, দেখতে চাইবে না এইসব দেশে। মার্ক্সবাদীদের হাত থেকে ক্ষমতা কেড়ে নিতে মার্কিন গোয়েন্দা সি. আই. এ. বোমা, গোলা, বারুদ কিছুই প্রয়োগ করলো না। প্রয়োগ করলো মগজ ধোলাইয়ের ব্রহ্মাস্ত্র। আর তাইতেই হুড়মুড় করে একের পর এক মার্ক্সবাদী সাম্রাজ্য ধসে পড়লো।"
- 'সংস্কৃতি: সংঘর্ষ ও নির্মাণ', প্রবীর ঘোষ
......................................................................................
'The Witch of Portobello' বইটার শেষের দিকে লেখক পাওলো কোয়েলহো পশ্চিমা ক্রিমিনালদের অন্যতম গুরু ইংল্যান্ড এর সরকারের মুখোশ খুলে দিয়েছেন এক ডাক্তারের বয়ানে। সামাজিক সাম্রাজ্যবাদী সোভিয়েতদের রোমানিয়াতে বিদ্যমান অস্ত্রের বাজার দখল করতে পুঁজিবাদী চীনের পাশাপাশি এরাও ঝাঁপিয়ে পড়েছিল চসেস্কু আর তার ছেলের সময়ে। ইংল্যান্ড নির্বাচনী স্ট্যান্টবাজির অংশ হিসেবে সংশোধনবাদী দেশটিতে লোক দেখানো মানবিক সহায়তা পাঠানো শুরু করেছিল। ডাক্তাররা অপ্রতুল ভ্যাকসিনের অভিযোগ জানালেও তাদের মুখ বন্ধ রাখতে আদেশ দেয়া হতো। এই লোক দেখানো কার্যক্রম দলীয় সমর্থক মিডিয়াতে ব্যাপকভাবে প্রচার করা হতো আর এই পদ্ধতিতে ইলেকটোরেট'দের সন্তুষ্ট করা হতো। অন্যদিকে গোপনে চলতো অস্ত্রের বাজার দখলের কার্যক্রম। তাছাড়া বেসামরিক এমন বিভিন্ন ক্ষেত্রে ডেলিগেট প্রেরণের মাধ্যমে পশ্চিমাদের সাংস্কৃতিক আগ্রাসন চালানোর ব্যাপারটা তো ছিলই।
.........................................................................................
"কাঠামোর উপর নির্ভরশীল হওয়া সত্ত্বেও উপরিকাঠামো কাঠামোকে প্রভাবিত করে। সমাজ জীবনে ধ্যান-ধারণা, সাংস্কৃতিক চেতনার ফল, রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা সহ অন্যান্য উপরিকাঠামোগত বিষয়গুলির ভূমিকা, বুনিয়াদ বা কাঠামোর উপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করে এবং কাঠামো পরিবর্তনের প্রক্রিয়াকে দ্রুত করে।"
(What Is Historical Materialism? by Z. Berbeshkina, L. Yakovleva, D. Zerkin, Progress Publishers, 1985, Moscow)
কথাগুলোকে একটু সহজ ভাষায় উপস্থাপন করা যাক। ছবিটা নির্বাচনপন্থী বাম মঞ্জুরুল আহসান খান এর। এদের মতো মানুষেরা যৌবনে মুখে তত্ত্ব নিয়ে ফেনা তুলে ফেললেও কেন শেষ বয়সে ধর্মের দিকে ঝুঁকে কিংবা সাংস্কৃতিক বিপ্লবের লাইন পরিহার করে আমজনতার মাঝে প্রচলিত কুসংস্কারকে প্রশ্রয় দিয়ে ভোটব্যাংক বাড়ানোর চেষ্টা করে তার ব্যাখ্যা রয়েছে উপরের কোটেশন চিহ্নের ভেতরের কথাগুলোতেই। এসব নির্বাচনপন্থী বাম সমাজকে পাল্টায় না, বরং সমাজ দ্বারা প্রভাবিত হয় দেখেই কেউ হাজি, কেউ নিয়মিত পূজা দেয়, কেউ প্রতি রবিবারে গির্জায় যায়। অন্যদিকে রয়েছে ট্রটস্কিপন্থীরা, যারা তাদের ক্রিমিনাল গুরুর কথা অনুযায়ী মনে করে কেবল রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করলেই হাজার বছরের জঞ্জাল তথা প্রাচীনপন্থী সংস্কারগুলো এক রাতেই গায়েব হয়ে যাবে। বিপ্লবের আগে, বিপ্লবের সময় এবং বিপ্লবের পরে সাংস্কৃতিক বিপ্লব চালিয়ে যাওয়ার মার্ক্সবাদী লাইন পরিহার করার কারণেই মূলত সোভিয়েত ইউনিয়নে ও বর্তমানের পুঁজিবাদী চীনে বিশেষ করে মুসলিম মৌলবাদ এতো দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে।
..........................................................................................
এই মাদকসেবী 'মেধাবীর' এক্সপোজ হওয়া নিয়ে নির্বাচনপন্থী বামেদের জ্বলার কারণ আছে। এই 'মেধাবী' ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বাম সংগঠনের সাথে জড়িত এবং এই বামেরাই জঙ্গিদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে দ্বিধা করেনি ইরান ও আরব দেশগুলোর বামেদের মতো।
...........................................................................................
টুইন টাওয়ার হামলার সময় পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় ছিল নির্বাচনপন্থী বামেরা। তারা মুখে আদর্শের নামে বড় বড় কথা বললেও এই ঘটনার পর রাজ্যটিতে বসবাসরত আফগানদের উপর নেমে আসে ভয়াবহ নিপীড়ন। সেখানে বৈধ অনুমতি নিয়ে কর্মরত আফগানদের উপর দেশে ফিরে যাওয়ার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। মার্কিনিদের গোপন নির্দেশে তাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে গ্রেফতার করা হয় এবং জেলে নিয়ে ভয়াবহ নির্যাতন করা হয়। বাম সরকার এই অজুহাত দেখায় যে, এই আফগানরা দেশে ফিরে গিয়ে তালেবানদের সাথে যোগ দিতে পারে কিংবা পশ্চিমবঙ্গ থেকে তালেবানদের সহায়তা করতে পারে। এসব আফগানদের মাসের পর মাস জেলে আটক করে অমানবিক আচরণ করা হতো। বাম সরকারের বক্তব্য ছিল আফগান যুদ্ধ শেষ হলে তাদের ছেড়ে দেয়া হবে। ভারতের অন্যান্য প্রদেশেও আফগানদের সাথে একই আচরণ করা হয়েছিল সেসময়।
..............................................................................................
আরব বসন্তের পর পশ্চিমাদের সাজানো অন্তর্বর্তী সরকারগুলোতে জায়গা পেতে দেশগুলোর নির্বাচনপন্থী বামেরা এভাবেই ছোক ছোক করেছিল। মোল্লারা তাদের লাথি দিয়ে বের করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে খুন করেছিল তখন।
............................................................................................
ঐ পাড়ের বামেদের পালিত গুন্ডার ফিরিস্তি-
https://youtu.be/ENCvh3svzFg?si=Uz_QIqowHeoDNZHK





Comments