Posts

মাই ইয়ার্স ইন এন ইন্ডিয়ান প্রিজন [পর্ব-এক]

Image
  বিহারের হাজারিবাগ সেন্ট্রাল জেলে আমার সেলের ভিতরে নিয়ে আসা একটা টেবিলের উপর আমি বসে আছি। ১৯৭০-এর জুন। ছ-সাত জন সাদা পোশাকের পুলিশ আমার মুখোমুখি। তাদের কেউ কেউ ঝুঁকে পড়ে, একেবারে আমার মুখের সামনে মুখ এনে, নাছোড়বান্দার মতো ক্রমাগত একই অভিযোগ করে চলেছে। অন্যদের গা ছাড়া ভাব, যেন রিল্যাকসড্, শিকার ধরা পড়ায় পরিতৃপ্ত। কিন্তু তাদের শীতল চাউনি আমার উপর স্থির নিবদ্ধ। বয়সে সবচেয়ে ছোটোজন আমায় জেরা করছে। তার ছোটো ছোটো চোখ দু'টি লাল, সশব্দ শ্বাস নির্গত হচ্ছে ঘনঘন; নিত্যদিন জেরায় অভ্যস্ত কঠিন, ভাবলেশহীন মুখ। "আপনি চাইনিজ?" "না, ব্রিটিশ।" "আমি বলছি আপনি চাইনিজ। পাসপোর্ট কোথায়?" "কলকাতায়।" "মিথ্যে কথা। আপনার পাসপোর্ট আমার কাছে। দেখতে চান?" কলকাতায় আমার শ্বশুরবাড়ি থেকে ওরা আমার জিনিসপত্র, টাকা-পয়সার সঙ্গে পাসপোর্টটাও বাজেয়াপ্ত করেছে। এদেশে আসার পথে যে যে দেশ আমি ঘুরে এসেছি, পাসপোর্টে সেসব দেশের স্ট্যাম্প ওদের বিভ্রান্ত করেছে। "আপনি কি চীনে ছিলেন?" "না।" "আফ্রিকা?" "না।" দিন দুই পর ভারত আর ব্রিটেনের প্রেস খবর ...

পশ্চিমারা কি আসলেই শ্রেষ্ঠ? (পর্ব-পাঁচ)

Image
  একটি ট্যাংকের দাম ৪০ লাখ মার্কিন ডলার। এই পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে প্রাণঘাতী অসুখ ঠেকানোর জন্য ৪০ লাখ শিশুকে টিকা দেয়া সম্ভব। একটি শিশুকে প্রাণঘাতী ৬টি রোগের বিরুদ্ধে টিকা দিতে খরচ হয় মাত্র ১ ডলার। একটি 'মিরেজ ২০০০' যুদ্ধবিমানের দাম ৯ কোটি মার্কিন ডলার। আর একটি শিশুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক বছর পড়ালেখার জন্য গড়পড়তা খরচ হয় ৩০ ডলার। একটি 'মিরেজ ২০০০' যুদ্ধবিমান কেনার খরচের বিনিময়ে ৩০ লাখ শিশুর প্রাথমিক শিক্ষার খরচ মেটানো সম্ভব। আধুনিক একটি ডুবোজাহাজের দাম ৩০ কোটি মার্কিন ডলার। অথচ এক বছরের জন্য একজনকে সুপেয় পানি সরবরাহ করতে গড়ে ৫ ডলারের মতো ব্যয় হয়। একটি ডুবোজাহাজ কেনার খরচের বিনিময়ে ৬ কোটি লোকের কাছে সুপেয় পানি পৌঁছে দেয়া সম্ভব। জানা মুহসেন এর নিচের বই দু'টো সেই সমস্ত গন্ডমূর্খের সমতুল্য উপমহাদেশের কথিত মুক্তমনা আর পশ্চিমা প্রেমী লিবারেলদের প্রতি চপেটাঘাত যারা কিনা মনে করে ইরানের মোল্লাতন্ত্রের বলয়ের বিপরীতে সৌদি ও পশ্চিমা বলয়ের শাসকদের অধীনে আরব দেশগুলো থাকলেই নারী মুক্তি সম্ভব। যেই লেখিকার কথা বলছি তার জন্মদাতা দুই বোনকে নিজের দুই বন্ধুর কাছে ইংল্যান্ড থেকে কৌশলে ইয়েম...

ক্যাস্ট্রোবাদ [পর্ব-দুই]

Image
  ফিদেল তার সাক্ষাৎকার ভিত্তিক আত্মজীবনীতে স্বীকার করেছেন মার্ক্সবাদের তাত্ত্বিক জ্ঞান অর্জনের তেমন সুযোগ তার হয় না। তারপরও তিনি নিজেকে 'মার্ক্সবাদী' হিসেবে সবসময় দাবী করলেও সাক্ষাৎকার দেয়ার সময় একটু পর পর 'ভাগ্যের' কথা উল্লেখ করেছেন যা বইটি পড়ার সময় যে কারো চোখেই ধরা পড়বে। তিনি বিপ্লবে অবদান রাখা কিংবা কিউবার ইতিহাসের অন্যান্য ক্ষেত্রে অবদান রাখা কালোদের প্রসঙ্গ আসলে সবসময় এভাবে বলেছেন "কালো হলেও...."। তিনি কতটা মার্ক্সবাদী (!) তা জানতে ' My Life: A Spoken Autobiography' বইটি থেকে নিচের লাইনগুলো পড়াই যথেষ্ট। তদন্তকারীদের জিজ্ঞাসাবাদে সে নিজেকে 'কমিউনিস্ট' বলে পরিচয় দেয়। ব্যস, যা হবার তাই হলো। মেক্সিকোর সব সংবাদপত্রে পরের দিন খবর বেরুলো যে আমরা একদল নৈরাজ্যবাদী কমিউনিস্ট এবং এই মহাদেশে গণতন্ত্র নস্যাতের ষড়যন্ত্র করে বেড়াচ্ছি। আরোও কী কী লিখেছে আমার জানা নেই...। চে'কে প্রসিকিউটরের সামনে হাজির করা হলে দেখা গেলো তার সাথে যুক্তিতর্কে পেরে উঠছেন না প্রসিকিউটর। কীর্তিমান ব্যক্তিবর্গের ব্যক্তিত্ব ও দোষগুণ টেনে আনলো চে। স্ট্যালিনের সমালোচনা করতে লা...

ধর্মীয় অসহনশীলতা কিংবা পূর্ব-পশ্চিম দ্বন্দ্ব

Image
  "আমাদের পরে যারা আসবে তাদের কেমন লাগবে, এই ভেবে আমি অনেক সময় ব্যয় করেছি", লিখেছেন ঔপন্যাসিক ও চিন্তাবিদ ডরিস লেসিং। তিনি আমাদের বর্বরতা, অজ্ঞতার দিকে পতিত হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে চিন্তিত ছিলেন। তিনি সমানভাবে সচেতন ছিলেন যে আমাদের জীবনে তথ্যের পরিমাণ সত্ত্বেও এটি ঘটতে পারে। আমরা এমন এক যুগে বাস করছি যেখানে তথ্যের পরিমাণ অনেক বেশি, জ্ঞানের পরিমাণ কম, এমনকি প্রজ্ঞার পরিমাণও কম। এই অনুপাতটি উল্টে দেয়া দরকার। আমাদের অবশ্যই কম তথ্য, জ্ঞানের পরিমাণ বেশি এবং প্রজ্ঞার পরিমাণ অনেক বেশি দরকার। এটা একটা সমস্যা, তথ্যের অফুরন্ত বাঁধ। ভুল তথ্য তো আছেই। আমরা এত কিছু প্রক্রিয়া করতে পারি না এবং সত্যটা হলো, আমরা তা করি না। বাস্তবে আমরা কেবল খবরের মধ্য দিয়ে ঘুরে বেড়াই, আমাদের স্ক্রিনে উপরে-নিচে স্ক্রল করি চিন্তা না করে এবং আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, অনুভূতি ছাড়াই। অনেক সময় সংখ্যার আর কোনও অর্থ থাকে না, তা ৫,০০০ শরণার্থী মারা গেছে বা ১০,০০০; পরিসংখ্যানের পিছনের ব্যক্তিগত গল্প না জানলে পার্থক্যটি আর থাকে না এবং থাকবে না। তথ্য আমাদের আঙুলের মধ্যে শুকনো বালির মতো প্রবাহিত হয়। এটি আমাদের এই ...

চাড্ডিগণ [পর্ব-চার]

Image
  আমাদের দেশের মোল্লারা যেমন কোরান-হাদিসে পদে পদে বিজ্ঞান খুঁজে পায়, পাশের দেশের চাড্ডিগুলোর স্বভাবও একই। সিউডো সায়েন্স এর উৎকৃষ্ট উদাহরণ এই ভিডিও। চাড্ডিরা আগে পৈতা আর ধুতি পড়েই এসব প্রচার করলেও বর্তমানে জিন্স, টিশার্ট পড়ে এসব অপবিজ্ঞান এর ভিডিও আপলোড করে। ঠিক একই স্টাইলে তুরস্কের মোল্লারা (যাদের তুর্কি ভাষায় 'হোযা' বলে সম্বোধন করা হয়) পশ্চিমাদের পোশাক পড়েই জিন তাড়ায় বাড়ি বাড়ি! খোদ পশ্চিমাদের দেশগুলোতেও বিভিন্ন সংস্থা এসব অপবিজ্ঞানের উপর তথাকথিত গবেষণা চালাতে বিশাল পরিমাণে ফান্ড পেয়ে থাকে। পেছনে সাধুদের লুইচ্চামি আর উপরে দুধে ধোয়া তুলসী পাতা চীন বিদ্বেষীতার মাত্রা! সংখ্যালঘু নিপীড়নে যখন উপমহাদেশের তিন দেশই সমান সেনাবাহিনীতে পর্যন্ত চাড্ডিগিরি! কিছুই বলার নেই  গুন্ডামি  মোল্লাদের মতোই এদের উপরে এক রূপ, ভিতরে আরেক রূপ  ঠিক যেমনটা তালেবানরা নিজেদের মেয়েদের ক্ষেত্রে করেছিল পোস্টকার্ড এর ক্রেডিট একজন মুসলমানের, অথচ নিজেদের মোল্লাদের আকামের খবর নাই! 🙄🙄🙄 এদের উগ্রতার ভয়াবহ পর্যায়! কাশ্মীরে মুসলিমদের দ্বারা সংগঠিত বর্বরতাকে ছড়িয়ে দিতে মিডিয়াকে কাজে লাগানো হলেও এগুলো চেপে...